ঈদুল আজহার পরিবেশ পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব
ঈদ ল আজহ ইসল ম পর ব – ঈদুল আজহা ইসলামের একটি প্রধান বাৎসরিক উৎসব। সামর্থ্যবান মুসলমানদের কোরবানি করার ওয়াজিবতা রয়েছে। আমাদের দেশে প্রতি বছর প্রচুর পশু কোরবানি হয়। গ্রামাঞ্চলে এর উপযুক্ত জায়গার তেমন কমতি নেই। তবে কোরবানির পর রক্ত-বর্জ্য সম্পূর্ণ পরিচ্ছন্ন করা হয় না। পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দুর্গন্ধ ছড়ায়। নগরাঞ্চলে এই সংকট আরও বেশি প্রকট হয়। ঢাকার মতো ঘনবসতি পূর্ণ শহরগুলোতে পশু কোরবানির স্থান না থাকায় বাড়ির সামনে প্রচুর কোরবানি হয়।
পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার আদর্শ
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, “নিশ্চয় আল্লাহ তাওবাকারীদের ভালবাসেন এবং ভালবাসেন অধিক পবিত্রতা অর্জনকারীদের।” (সুরা বাকারা: ২২২) বিখ্যাত তাবেঈ সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহ.) বলতেন, “আল্লাহ তা’আলা পবিত্র এবং পবিত্রতা ভালোবাসেন। তিনি পরিচ্ছন্ন এবং পরিচ্ছন্নতা পছন্দ করেন।” নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতাকে ইমানের অংশ ঘোষণা করে বলেছেন, পবিত্রতা পাক-পবিত্রতা হলো ইমানের অর্ধেক।” (সহিহ মুসলিম)
নবী করীম (সা.) বলেন, “ইমানের সত্তর বা ষাটের বেশি শাখা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠতম শাখা হলো, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা, আর সর্ব নিম্নস্তরের শাখা হলো, রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা।” (সহিহ মুসলিম)
পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব আমাদের কর্তব্য। পুরো শহর পরিস্কার করা নগর কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব, কিন্তু আমরা সবাই নিজের বাড়ির আঙিনা ও রাস্তার পরিচ্ছন্নতার জন্য সচেতন থাকতে হবে। কোরবানি করার পর রক্ত ও বর্জ্য পরিস্কার করা যায়। আমাদের কষ্ট হলো যে এটা প্রতিবেশীদের ক্ষতি করে। নবী করীম (সা.) বলেন, “প্রকৃত মুসলমান সেই ব্যক্তি যার কথা ও কাজ থেকে অন্য মুসলমানরা নিরাপদ থাকে।” (সহিহ মুসলিম) সুতরাং রাস্তাঘাটে কোনো কাঁটা, পাথর বা দৃষ্টিকটু নোংরা জিনিস থাকলে তা দূর করতে আমরা সচেষ্ট হবো।
সামান্য কাজ থেকে এটা প্রমাণ হয়েছে যে পরিবেশ দূষণ করা গর্হিত। সেই আমলের কারণে একজন ব্যক্তি জান্নাত লাভের কারণ হতে পারে। হাদিসে বলা হয়েছে, এক ব্যক্তি রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় কাঁটাযুক্ত ডাল দেখে বলেন, “আল্লাহর শপথ! আমি অবশ্যই মুসলমানদের চলাচলের রাস্তা থেকে এটা সরিয়ে দেবো।” তার কারণে তাকে জান্নাত দান করা হয়। (সহিহ মুসলিম)
আমরা সচেতন হয়ে নিজের আশপাশের জায়গাগুলো ও রাস্তাঘাট নোংরা রাখার প্রতি বিশেষ �