শহরের শিশুদের চোখে কোরবানি ঈদ
শহর র শ শ দ র চ – ঈদ কোরবানির আগমনে শহরের পরিবেশ যেন সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে ওঠে। ব্যস্ত সড়কে সারা দিন মানুষের ভিড় জমে ওঠে, পশুর ডাক শোনা যায় অলিগলিতে। ছাদ ও গ্যারেজে বাঁধা থাকে গরু ও ছাগল। সব মিলিয়ে কোরবানি ঈদ শহরের মানুষের জন্য এক আলাদা উৎসব হয়ে ওঠে। তবে শিশুদের কাছে এটি আরও বিশেষ এবং আনন্দের সময়।
শহরের অনেক শিশু ছোট বেলা থেকে কোরবানির পশু দেখার সুযোগ খুঁজে চলে। তাদের কাছে ছোট্ট হাট যেন ছোট মেলার মতো হয়। বিশাল গরু, রঙিন দড়ি, বিক্রেতাদের হাঁক-ডাক তাদের কাছে আনন্দের উৎস হয়ে ওঠে। অনেক শিশু বড়দের সঙ্গে পশু কেনার অভিজ্ঞতা পায়।
কোরবানি শুধু পশু জবাই নয়; এটি ত্যাগ, আনুগত্য ও মানবিকতার শিক্ষা।
গ্রামের শিশুরা প্রায় সব বছরই গরু, মহিষ, ছাগল এবং ভেড়া দেখতে পায়। তারা ছোট বেলা থেকে এসব পশু সঙ্গে পরিচিত। নগরজীবনে বড় হওয়া শিশুদের প্রকৃতির সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত। তারা বই বা টেলিভিশনে গরু ও ছাগল দেখেও কাছ থেকে ছুঁয়ে দেখার সুযোগ খুব কম পায়।
কোরবানি ঈদ তাদের জন্য জীবন্ত অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে। অনেক শিশু পরিবারের সঙ্গে হাটে যায় এবং পশু কেনার আনন্দ অনুভব করে। কিছু পরিবারের ক্ষেত্রে কোরবানি করার সামর্থ্য নেই বলে সেখানে শিশুরা শুধু পশু দেখার জন্য হাটে উপস্থিত হয়।
ঈদের দিন ঢাকা শহরে প্রতিটি বাড়ির সামনে পশু কোরবানির প্রস্তুতি চালু হয়। রাস্তায় সারি সারি গরু ও অন্যান্য পশু দেখা যায়। বড়রা কোরবানির কাজে ব্যস্ত থাকেন এবং শিশুরা সেই দৃশ্য আনন্দের সঙ্গে ভোগ করে।
প্রাণীর প্রতি মমত্ব ও ভালোবাসা শিশুদের ছোট ছোট কাজের মাধ্যমে শিখানো হয়। তারা পশুকে খাবার দেয়, পানি পান করায়, গায়ে হাত বুলিয়ে আদর করে। এসব কাজ তাদের কাছে অভিজ্ঞতা দেয় এবং শিশুদের মনে উচ্ছ্বাস জাগিয়ে তোলে। কোরবানির মাংস যখন দরিদ্র পরিবারের হাতে পৌঁছে যায়, তখন তাদের অনুভব করে ঈদের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার মধ্যেই প্রকৃত আনন্দ।
কোরবানি ঈদ শহরের শিশুদের জন্য কেবল উৎসব নয়, এটি এক ধরনের জীবন