কোরবানি পশুর চামড়া / ‘কেনা তো দূরের কথা, কেউ দেখতেও আসেনি’
ক রব ন পশ র চ মড় – মিরসরাই উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের মধ্যম এলাকায় বসবাস করেন কোরবানি দাতা আবু জাফর। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, পশু বিজয়িতা হয়ে গেলে চামড়া কেনার জন্য কেউ আসেনি। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কেনা তো দূরের কথা, দেখতেও ক্রেতা এলো না। আগে পশু চামড়া বিক্রি করা হতো দুই হাজার টাকার মতো দামে, কিন্তু এবার সে মূল্য এত কমে গেল যে বিক্রি করার সম্ভাবনা নেই।
‘পশুর চামড়া এত মূল্যহীন হয়ে গেল! শেষ পর্যন্ত বিক্রি করা গেল না। অথচ চামড়াজাত পণ্যের দাম আকাশচুম্বী।’
ফজলুল করিম বলেন, গতবছর পশু চামড়া দর ছিল ১৫০-২০০ টাকা, কিন্তু এবার কেউ কিনতে আসেনি। এতিমখানা থেকেও কেউ চামড়া সংগ্রহ করতে দেখা যায়নি। সরকার পরিবর্তনের পর চামড়ার চাহিদা বাড়বে বলে আশা করেছিলেন তিনি, কিন্তু বরং অবস্থা আরও খারাপ হয়ে গেছে।
মিরসরাই উপজেলার ১৬ ইউনিয়ন ও দুই পৌরসভায় এবার ৫৩ হাজার পশু কোরবানি হয়েছে। তবে চামড়া বিক্রি করতে পারেননি কেউ। ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের জিয়া উদ্দিন বলেন, তিনি দুটি গরু কোরবানি দিয়েছেন এক লাখ ৭০ হাজার ও এক লাখ ৯৫ হাজার টাকার মূল্যে। কিন্তু চামড়ার বিক্রি প্রক্রিয়া হয়নি।
‘একটা সময় ৩০ হাজার টাকায় কেনা গরুর চামড়া বিক্রি করেছেন ১০০০-১৫০০ টাকায়।’
বিজয়িতা পশু চামড়া সংগ্রহ করতে যাওয়া শুরু হয় না, তাদের হক হিসেবে সেগুলো চামড়া ছাত্রদের জন্য ব্যবহার করা হতো। সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘কোরবানি পশুর চামড়া গরিবের হক। কিন্তু চামড়া বিক্রিই করা যাচ্ছে না, তাদের কী দেবো?’
মাদরাসার পক্ষ থেকে চামড়া সংগ্রহের কথা বলেছিলেন মাওলানা শহীদুল ইসলাম, আবুরহাট মনিরুল ইসলাম মাদরাসার মুহতামিম। তিনি বলেন, ‘যে লাউ সেই কদু, চামড়া সংগ্রহ করতে পারছি না এখন। অনেক পরিশ্রম করেও লাভ হয় না।’
জোরারগঞ্জ বাজারে চামড়া ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেন বলেন, তিনি প্রায় ৪০০ চামড়া কিনেছেন। প্রতি পিস দর হয়েছে ১০০-২৫০ টাকা। চামড়ায় লবণ লাগাতে হবে, পরিবহন খরচ ও শ্রমিকের পারিশ্রমিকের কারণে দাম আরও বাড়বে।