Opinion

সুগন্ধির জোছনা ও স্মৃতির উঠোন

সুগন্ধির গ্রাম ও পরিবারের ইতিহাস স গন ধ র জ ছন ও - আমাদের গ্রামে পরদাইন্না বাড়ি হিসেবে পরিচিত ছিল পূর্বপুরুষদের নাম। আমার দাদা লুতফে আলী সরকারের পূর্বপুরুষ

Desk Opinion
Published June 14, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments

সুগন্ধির গ্রাম ও পরিবারের ইতিহাস

স গন ধ র জ ছন ও – আমাদের গ্রামে পরদাইন্না বাড়ি হিসেবে পরিচিত ছিল পূর্বপুরুষদের নাম। আমার দাদা লুতফে আলী সরকারের পূর্বপুরুষ প্রধানিয়া পদবিধারী ছিলেন বলে শুনেছি। কুলীন বংশের মানুষ হলেও তাঁর নামের শেষে সরকার পদবী গ্রহণের বিষয়ে কোনো কাহিনী আমাদের জানা ছিল না।

আমার দাদার ছেলেদের মধ্যে কেবল মেজো কাকা মোখলেসুর রহমান ও বাপের নামে সরকার বলে পরিচিতি পেয়েছিলেন। বাকি তিন পুত্র পদবীবিহীন ছিলেন—আলি আহমেদ, সিদ্দিকুর রহমান এবং সামসুল হক। সুগন্ধি গেলে আমি বেশির ভাগ সময় দাদার বাড়িতে কাটিয়েছিলাম। তিনি দীর্ঘদেহী ছিলেন এবং শৈশবে তাঁর বাড়িতে অনেক রাত কাটিয়েছিলাম।

‘ও কারিগর, দয়ার সাগর, ওহে দয়াময় / চাঁদনি পসর রাইতে যেন আমার মরণ হয়…’

দাদির স্বাস্থ্যের অধিকারী কর্মক্লান্ত মেজো চাচি ছিলেন যার হাসিমাখা মুখ আমার করোটিতে অদ্যাবধি জাগরুক। তাঁর স্নেহ আমাদের ঘরে ছিল আলোচনা করার প্রথম কাজ। পরবর্তীতে সিকিরচর ফুফুর বাড়ি থেকে কোনো কোনো রাতে অপূর্ব জোছনা ও স্মৃতি আমাদের ঘরে ছিল সেখানে পুকুরের ঘাট অনেক নিচে ছিল। কিন্তু ঝুনা নারিকেল পড়লে তিনি অক্ষত অবস্থায় বেঁচে গিয়েছিলেন বলে শুনেছি।

শিক্ষা ও পরিবারের সম্পর্ক

নোয়াব আলি নামে আমাদের বাড়িতে একজন আসর ছিল। তিনি অন্য ঈশার লোক ছিলেন এবং আমার আব্বার চাচা হিসেবে পরিচিত। শরীফউল্লাহ্‌উচ্চবিদ্যালয়টি ১৯৪৩ সালে আবুল মন্সুর সরকার সাহেব প্রতিষ্ঠা করেন। আমার আব্বা সিদ্দিকুর রহমান ছিলেন স্কুলের দ্বিতীয় প্রধান শিক্ষক।

ফুফু ও দাদি ছিলেন আমাদের দক্ষিণের গ্রামে। আমার বড় ফুফাতো ভাই নুরুল হক দেখতে সিনেমার নায়কের মতো ছিলেন—লম্বা, ফর্সা, ব্যাকব্রাশ চুল এবং মায়াবী চোখ। তাঁকে ভাত খাওয়ার জন্য ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল ঘুষ খাওয়ার অপরাধে।

বাড়ির মহল ও ঘরের নাম

সরকার বাড়ি ও পরদাইন্না বাড়ি গ্রামে দুটি প্রধান পরিবার। আমাদের বাড়িতে সবাই উঠোনে আসতেন। হোগলা বা পাটি পেতে বসত মহিলাদের আসর। পুরুষদের ভিলেজ পলিটিকস ও হুক্কার গুড়গুড় শব্দ ঘরে হত।

তবে ছোট কাকা মুক্তিযোদ্ধা এম. সামসুল হক টানা নয় বছর মন্ত্রী থাকার পর বাড়ির নাম বদলে হয়েছিল ‘মন্ত্রী বাড়ি’। আমাদের প্রজন্মে বাপ-চাচাদের চার ঘরে মোট সন্তান ২৯ জন ছিল। সেটা তিন গুণ কম হয়েছিল আমাদের পরবর্তী প্রজন্মে।

বংশের বড় সন্তান আব্দুর রশিদ মানে আব্বার ছেলে ছিলেন সবচেয়ে সৃজনশীল। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি উদ্যোক্তা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে দুর্ভাগ্যবশত

Leave a Comment