বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে কোথায় বড় বাধা তৈরি হচ্ছে?
ব ল দ শ নব য়নয গ – ২০৩০ সালের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশের সরকার কী করছে তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব বিষয়ে জাগো নিউজের সাথে কথা বলেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর জ্বালানি উপদেষ্টা এবং ডিফোডিল ইটারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটির প্রকৌশল অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. এম শামসুল আলম। সাক্ষাৎকার করেছেন নিজস্ব প্রতিবেদক মো. নাহিদ হাসান।
পলিসি বাধা এবং বিদ্যুৎ খাতে ন্যায্যতা অভাব
প্রফেসর ড. এম শামসুল আলম বলেন, বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ খাতে বৈষম্য বৃদ্ধির প্রধান কারণ হল সরকারের পলিসি। বর্তমানে ফসিল ফুয়েল ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান্য প্রকাশ করা হচ্ছে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির বাজার কম গুরুত্ব পাচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ সরকারের দায়িত্ব নেয় না। এখনও আমরা জমির মূল্যে প্ল্যান্ট গড়ে ওঠার বিষয়ে মতামত দিয়েছিলাম, যেন বিনিয়োগ হয় না। যদি সরকার জমি দেয় তাহলে আমলাতান্ত্রিক হিসাব না হয় সৌরবিদ্যুৎ বিকাশের ক্ষেত্রে।
সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, ট্যারিফ নির্ধারণে সঠিকভাবে প্রতিষ্ঠানকে উৎসাহিত করতে হবে। ন্যায্য ও যৌক্তিক মূল্যে বিদ্যুৎ দাম নির্ধারণ করা যেতে পারে। যেহেতু এই খাতে ব্যয় সমন্বয় করা হয়নি তাই বিনিয়োগকারীদের প্রতিযোগিতা করতে হবে।
প্রতিযোগিতা না হওয়া এবং জনগণের সম্পৃক্ততা
পূর্ববর্তী সরকার যে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগকারী নির্বাচন করবে এর প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু সেটি পূরণ হয়নি। বর্তমান সরকার যদি সেই পথে হাঁটে তাহলে এটি দুর্ভাগ্যজনক হবে।
তিনি আরও বলেন, ট্যারিফ এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ খাতে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি করা যেতে পারে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাতিল হওয়া ৩১টি প্রকল্পের যাচাই-বাছাই বর্তমান সরকারের অন্যতম কাজ। আগের সরকারের সময় মূল্য দ্বারা কিছু প্রতিষ্ঠান আর্থিক লাভ করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিদ্যুৎ দামের তুলনা এবং পরিবর্তনের দরকার
প্রফেসর আলম বলেন, ভারতে সৌরবিদ্যুৎ খাতে দাম ৩ টাকা ৬০ পয়সা, পাকিস্তানে ২ টাকা ৮০ পয়সা হলে বাংলাদেশে আমরা সাড়ে ৭ টাকা চাইছি। এই দামেই বিদ্যুৎ পাওয়া উচিত। যদি বর্তমান সরকার আগের প্রথার পরিবর্তে নতুন পদ্ধতি নেয় তাহলে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা হতে পারে।
ট্যাক্স-ভ্যাট সরকার কম ব্যয়ে পরিশোধ করে দিলে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ খাতে বৈষম্য কমে আসবে। বিদ্যুৎ খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প পুনরুদ্ধার করা এখন প্রধান বিষয়।