৭১-এর মানবতাবিরোধী অপরাধ: ট্রাইব্যুনালে ২৯টি মামলার বিচার অব্যাহত থাকছে না
৭১ এর ম নবত ব র ধ – ২০০৯ সালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার প্রস্তাব দেয়। পরবর্তী পুরাতন হাইকোর্ট ভবনে ২০১০ সালের ২৫ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়। মামলার সংখ্যা বাড়ার কারণে ২০১২ সালের ২২ মার্চ ট্রাইব্যুনাল-২ নামে আরেকটি সংস্থা তৈরি করা হয়। মামলা কমে আসায় ২০১৩ সালের ১৩ অক্টোবর দুটি ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রম প্রায় অবস্থান হয়ে যায়। বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ২৯টি। এগুলোতে মোট আসামির সংখ্যা ১০৫ জন। কিন্তু ট্রাইব্যুনালে এখন কেউ কারাগারে নেই।
ট্রাইব্যুনালের আগে একাত্তরের মামলার ফলাফল
পুনর্গঠনের আগে ট্রাইব্যুনাল মোট ৫৯টি মামলায় রায় দিয়েছিল। সেই মামলার মধ্যে সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল ছয়জনের। তাদের মধ্যে পাঁচজন জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতা এবং একজন বিএনপির প্রধান নেতা ছিল।
ট্রাইব্যুনালে বিচারের ফলে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাতজনের নামে শোক জানালো সংসদ।
প্রথম মৃত্যুদণ্ড আব্দুল কাদের মোল্লাকে দেয়া হয় ২০১২ সালের ১২ ডিসেম্বর। দ্বিতীয় অপরাধী মুহাম্মদ কামারুজ্জামানকে ২০১৫ সালের ১১ এপ্রিল ফাঁসি দেয়া হয়। তৃতীয় ও চতুর্থ মৃত্যুদণ্ড একই সময়ে কার্যকর হয় ২০১৫ সালের ২২ নভেম্বর। পঞ্চম মৃত্যুদণ্ড জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীকে ২০১৬ সালের ১১ মে গ্রেফতার করা হয়। ষষ্ঠ মৃত্যুদণ্ড মীর কাসেম আলীকে ২০১৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর কাশিমপুর কারাগারে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা হারিয়েছে পরে বিচারক, আইনজীবী ও তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা পদত্যাগ করে চলে যান। ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম বন্ধ থাকার কারণে মামলার বিচার সম্পূর্ণ হয়নি।