স্বাস্থ্য সচিবের সাক্ষাৎ পাননি আদ্-দ্বীনের বিদেশি ইন্টার্ন চিকিৎসকরা
স ব স থ য সচ ব – আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির সদস্য হিসেবে ইন্টার্নশিপ করছেন বিদেশি শিক্ষার্থীরা চরম আইনি জটিলতায় আটকে পড়েছেন। তারা বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হলেও কোনো সমাধান পাননি।
গত ২৩ জুন সকালে সচিবালয়ে আসার পর বিদেশি শিক্ষার্থীদের দল স্বাস্থ্য সচিবের সাক্ষাৎ পেতে চেষ্টা করেছে, কিন্তু তিনি দপ্তরে ছিলেন না। তারা বলেন, আমরা সমস্যার কথা জানাতে সচিবের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তার দেখা পাইনি, কারণ তিনি তখন দপ্তরে ছিলেন না।
এ জটিলতা দ্রুত কাটবে এবং কর্তৃপক্ষ একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করবে বলে তারা আশাবাদী। তারা আরো বলেন, বিদেশ থেকে বিপুল অর্থ ব্যয় করে এ দেশে পড়তে এসেছি। বড় ধরনের অনিশ্চয়তা নিয়ে দেশে ফিরতে চাই না।
সংকট উদ্ভূত হয়েছে লাইসেন্স বাতিলের পর
আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনার পর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটি ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজছে। এর আগে গত ২৭ মে সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে ঘটনার প্রতিবেদন করা হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আদ্-দ্বীন হাসপাতালের মালিক শেখ মহিউদ্দিনকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় গত ১১ জুন লাইসেন্স বাতিল করা হয়।
প্রতিষ্ঠানের ইন্টার্ন শিক্ষার্থীদের সংখ্যা
বর্তমানে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩০ জন ভারতীয় ও একজন মালদ্বীপের শিক্ষার্থীসহ মোট ৩১ জন বিদেশি শিক্ষার্থী ইন্টার্নশিপ করছেন। প্রতিষ্ঠানটির দেশি-বিদেশি মিলিয়ে ইন্টার্ন শিক্ষার্থীর সংখ্যা সাড়ে তিন শতাধিক।
আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল হওয়ায় আমাদের ভবিষ্যৎ ও পেশাগত জীবন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, যে মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস শেষ করা হয়, সেই কলেজের হাসপাতালেই ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করতে হয়। অন্যথায় নিজ দেশে ফিরে গিয়ে চিকিৎসা পেশায় যুক্ত হওয়া সম্ভব হবে না। আমরা এখনো আশা করছি আমাদের মানবিক সংকটের একটি যৌক্তিক সমাধান হবে।
অনুমোদিত হাসপাতালে ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করার নিয়ম অনুযায়ী চিকিৎসক হিসেবে নিবন্ধন পাওয়া এবং ভবিষ্যতে স্বাধীনভাবে চিকিৎসা পেশা পরিচালনার আইনি প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।