প্রাণ হারাল ভাই ইব্রাহিম বোন ও ভাগিনার জর্জরিত হামলায়
ব ন ভ গ ন র ম – কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার মৌকরা ইউনিয়নের পৌঁছই গ্রামে বাঁশ কাটার বিষয়ে বিরোধ ঘটায় ইব্রাহিম মরণ (৫৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন তার বোন নাছিমা বেগম এবং তার ভাগিনাদের বিষয়ে পুলিশ আটক করেছে।
নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বুধবার সন্ধ্যায় ঘটনার প্রতিবেদন দেন। তিনি জানান যে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নিহত ইব্রাহিম ছিলেন মৌকরা ইউনিয়নের পৌঁছই গ্রামের রাজা মিয়ার ছেলে। তার বোন নাছিমা বেগম ও স্বামী কোব্বাত আহম্মদ এবং ছেলে অলি আহম্মদ নিহতকে পিটিয়ে মেরে ফেলেন। এ হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত বোন আটক করা হয়েছে।
স্থানীয় সত্য তথ্য অনুযায়ী, নাছিমা বেগমের সঙ্গে পাশের বাড়ির কোব্বাত মিয়ার বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পর থেকে তার ভাইদের সঙ্গে বিরোধ ঘটছিল। বোন ও তার পরিবারের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ছোট ভাই মহিন নাঙ্গলকোট সদরে বাসা ভাড়া নিয়ে চলে গেলেও ইব্রাহিম পৈতৃক বাড়িতে বাস করে আসছিলেন।
“ফুফুর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে দীর্ঘদিন নানার বাড়িতে ছিলাম। এক বছর আগে বাড়িতে ফিরে আসি। বেশ কিছুদিন ধরে ফুফু আমাদের বসতঘরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়াসহ মাকে মারধর করে আসছিলেন। সকালে বাঁশ কাটার প্রতিবাদ করায় ফুফু-ফুফা আর ফুপাতো ভাই মিলে বাবাকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি,” বলেন নিহতের মেয়ে আফরোজা আক্তার।
নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান দাবি করেন যে বাকিদের আটক করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে এবং হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
এ ঘটনার সময় তলপেট ও অণ্ডকোষে গুরুতর আঘাত পেয়ে ইব্রাহিম ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তার মৃত্যু ঘোষণা করেন।