পবিত্র জিলহজ মাসের বিশেষ মর্যাদা
পব ত র জ লহজ ম স – আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কৃপায় আমরা পবিত্র জিলহজ মাসের আগমন ঘটাচ্ছি। এ মাসটি আরবি বারো মাসের শেষ মাস হিসাবে পরিচিত, এবং বছরের চারটি মুক্তিপ্রাণ মাসের একটি। এ মাস বিশেষ আমলের প্রতি সমানভাবে নিয়োজিত। আল্লাহর প্রতি আনুগত্য এবং মহান ত্যাগের স্মৃতি এ মাসে প্রকাশ পায়।
জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনের ফজিলত
হাদিসে এসেছে যে, হজরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম ও হজরত ইসমাইল আলাইহিস সালামের আনুগত্যের স্মৃতি জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনে প্রকাশ পায়। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, “আমার প্রতি আজহার দিন (১০ জিলহজ) ঈদ পালন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা আল্লাহ এই উম্মতের জন্য নির্ধারণ করেছেন।”
তখন এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসুল (সা.)! আপনি বলুন, (যদি আমার কোরবানির পশু কেনার সামর্থ্য না থাকে) কিন্তু আমার কাছে এমন উট বা বকরি থাকে, যার দুধ পান করা বা মাল বহন করার জন্য তা প্রতিপালন করি। আমি কি তা কোরবানি করতে পারি? তিনি বললেন, না। বরং তুমি তোমার মাথার চুল, নখ, গোঁফ কেটে ফেলো এবং নাভির নিচের চুল পরিষ্কার করো।
হাদিসে এসেছে, হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “এমন কোনো দিন নেই যে দিনগুলোতে ইবাদত আল্লাহর কাছে জিলহজের প্রথম দশকের ইবাদত থেকে অধিক প্রিয়।” জিলহজের প্রথম দশকের প্রত্যেক দিনের রোজা এক বছরের রোজার সমতুল্য এবং প্রত্যেক রাতের ইবাদত লাইলাতুল কদরের সমতুল্য। (তিরমিজি)
তালবিয়া পাঠের বিশেষ মর্যাদা
হাজিরা মিনার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে সকাল হতেই তালবিয়া পাঠ করা হয়। হাদিসে এসেছে, হজরত সাওবান রাদিআল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তুমি বেশি বেশি সেজদা কর। কারণ তুমি এমন কোনো সেজদা কর না যার কারণে আল্লাহ তোমার মর্যাদা বৃদ্ধি করেন না এবং তোমার গুনাহ ক্ষমা করেন না।” (মুসলিম)
যেভাবে হাদিসে এসেছে, হজরত সহল ইবনে সাআদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “একজন হজযাত্রী যখন তালবিয়া পাঠ করেন, তখন তার আশপাশের পাথর-নুড়ি, পাহাড়-পর্বত, বৃক্ষলতা সবকিছুই সেই তালবিয়া পাঠে শরিক হয়।” (তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ)