আন্তর্জাতিক প্রসূতি ফিস্টুলা প্রতিরোধ দিবসের গুরুত্ব
ফ স ট ল ম ক ত – বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর ২৩ মে আন্তর্জাতিক প্রসূতি ফিস্টুলা প্রতিরোধ দিবস পালিত হয়। এই দিবসটি জাতিসংঘ কর্তৃক ঘোষিত হয় এবং এটি কেবল স্বাস্থ্য জনসচেতনা কর্মসূচি নয়—এটি নারী স্বাস্থ্য, মাতৃমৃত্যু হ্রাস, নিরাপদ মাতৃত্ব এবং মানবাধিকারের গভীর আহ্বান বহন করে।
আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের যুগে প্রসূতি ফিস্টুলার অস্তিত্ব মানবসভ্যতার জন্য লজ্জাজনক হিসাবে বিবেচিত হয়। প্রতিটি নারীর জন্য এই রোগ থেকে মুক্তি পেতে হবে।
ফিস্টুলার কারণ ও প্রভাব
পৃথিবীর বহু দেশে হাজার হাজার নারী প্রসবজনিত জটিলতার কারণে অবস্টেট্রিক ফিস্টুলা নামক একটি ভয়াবহ শারীরিক ও সামাজিক বিপর্যয়ের শিকার হন। ক্ষতিগ্রস্ত জন্মনালির আশপাশে টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাওয়ার ফলে মায়ের মূত্রথলি বা মলাশয়ের সাথে অস্বাভাবিক ছিদ্র তৈরি হয়। তার ফলে নারীর অনিয়ন্ত্রিত প্রস্রাব বা মল নির্গত হতে থাকে।
নারীর স্বাস্থ্যকে অবহেলা করে কোনো জাতি উন্নত হতে পারে না।
যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে ফিস্টুলা নিরাময় সম্ভব। কিন্তু দরিদ্রতা, সামাজিক ভয় ও চিকিৎসাসেবার অপ্রতুলতা কারণে অনেক নারী চিকিৎসার আওতায় আসতে পারেন না। শিশুর মাথার চাপে প্রসবকালীন দীর্ঘ সময় বাধাগ্রস্ত প্রসবের ফলে এটি সৃষ্টি হয়।
বাংলাদেশের সামগ্রিক অগ্রগতি
বাংলাদেশে গত কয়েক দশকে মাতৃস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য প্রগতি ঘটেছে। মাতৃমৃত্যু হ্রাস এবং হাসপাতালভিত্তিক প্রসবের সংখ্যা বেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগ এবং গ্রামীণ স্বাস্থ্য সেবার বিস্তার দেখা যাচ্ছে।
তারপরও প্রসূতি ফিস্টুলা পুরোপুরি নির্মূল হয়নি। সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার ব্যবস্থা করছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, মিডওয়াইফ এবং নার্সদের প্রশিক্ষণ প্রসারিত হয়েছে। কিন্তু প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখনও অনেক নারী সেবার বাইরে রয়েছেন।
মানবাধিকার ও সমাজ সচেতনতা
প্রসূতি ফিস্টুলার প্রতিরোধে কেবল চিকিৎসা নয়, সামাজিক সচেতনতাও গুরুত্বপূর্ণ। নারী স্বাস্থ্যের নিশ্চয়তা দিতে হবে একটি নিরাপদ মাতৃত্বের ব্যবস্থা করা যাবে। শুধুমাত্র দারিদ্র্য, অবহেলা বা চিকিৎসাসেবার অভাবে নারী রোগে আক্রান্ত হন। এটি সামাজিক বৈষম্য ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে।
গণমাধ্যম ফিস্টুলার বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা