বিশ্বকাপে এমবাপে শীর্ষে, স্পেনের কেউ নেই শীর্ষ ১০০-এ
Bangladailypost.com – ব শ বক প ফ টবল সবচ – ফিফা সাম্প্রতিকভাবে বিশ্বকাপের খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ গতির সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করেছে। এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে ঘণ্টায় ৩৭.৬১ কিলোমিটার বেগে টুর্নামেন্টের দ্রুততম ফুটবলার হিসেবে শীর্ষে আছেন। অন্যদিকে বিশ্বকাপ জয়ী স্পেনের কোনো খেলোয়াড়ই সেরা ১০০ দ্রুততম ফুটবলারদের তালিকায় জায়গা পাননি।
স্পেনের অবিশ্বাস্য অনুপস্থিতি
স্পেনের প্রতিনিধিত্ব করছেন অ্যালেক্স বায়েনা, যিনি ১১৩তম স্থানে আছেন। বিশ্লেষকরা মনে করেন, লা রোজার খেলার ধরনে গতির চেয়ে পাসিং এবং পজিশনিং বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই কৌশলগত পার্থক্যই এই পরিসংখ্যানের পেছনে রয়েছে।
এমবাপের পরেই আছেন সুইডেনের অ্যান্থনি এলাঙ্গা। তার সর্বোচ্চ গতি ছিল ৩৭.১৬ কিমি/ঘণ্টা। এমবাপে এবং এলাঙ্গার মধ্যে মাত্র ০.৪৫ কিমি/ঘণ্টা পার্থক্য। ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে এই ছোট ব্যবধানটিকেও বড় হিসেবে গণ্য করা হয়।
অন্যান্য শীর্ষ গতিমান খেলোয়াড়রা
তৃতীয় স্থানে আছেন টটেনহ্যামের ডিফেন্ডার মিকি ফন ডে ভেন। তিনি ঘণ্টায় ৩৬.৭৭ কিলোমিটার গতিতে ছুটে নরওয়ের গোলমেশিন আরলিং হালান্ডকেও পেছনে ফেলেছেন। হালান্ডের সর্বোচ্চ গতি ছিল ৩৬.৫২ কিমি/ঘণ্টা, যা তাকে তালিকার পঞ্চম স্থানে নিয়ে গেছে।
চতুর্থ স্থানে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার ডিফেন্ডার জর্ডান বস। তার গতি ছিল ৩৬.৬৭ কিমি/ঘণ্টা। ষষ্ঠ স্থানে আছেন উজবেকিস্তানের আব্দুকোদির খুসানভ। তার গতি ছিল ৩৬.৪৬ কিমি/ঘণ্টা। যদিও তার দল নকআউট পর্বে উঠতে পারেনি, তবুও গতির দিক থেকে তিনি সেরাদের একজন ছিলেন।
সপ্তম থেকে দশম স্থান দখল করেছেন যথাক্রমে: ফ্রান্সের উইঙ্গার ব্র্যাডলি বারকোলা (৩৬.৩২), ইংল্যান্ডের জেড স্পেন্স (৩৬.২২), ফ্রান্সের থিও হার্নান্দেজ (৩৬.১৭) এবং পর্তুগালের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নেলসন সেমেদো (৩৫.৯০)। ৩২ বছর বয়সী সেমেদোই এই তালিকার সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড়।
এই পরিসরে আছেন ইংল্যান্ডের অ্যান্থনি গর্ডন, অস্ট্রেলিয়ার মোহাম্মদ তোরে, নেদারল্যান্ডসের রায়ান গ্রাভেনবার্খ, যুক্তরাষ্ট্রের ফোলারিন বালোগুন, নরওয়ের মার্কাস হোলমগ্রেন পেডারসেন, ইকুয়েডরের অ্যালান মিন্দা, নরওয়ের সন্দ্রে লাঙ্গাস, মরক্কোর আশরাফ হাকিমি, ফ্রান্সের দায়ো উপামেকানো এবং পর্তুগালের পেদ্রো নেতো।
আর্জেন্টাইন তারকা জিউলিয়ানো সিমিওনে তালিকার ২৩তম স্থানে আছেন। ব্রাজিলের দানিলো তালিকার ৯৬তম স্থানে থেকে বিশ্বকাপের দ্রুততম ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।
ফ্রান্স সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে শিরোপা জিততে পারেনি। তবুও এমবাপে টুর্নামেন্ট শেষ করেছেন গোল্ডেন বুট জিতে এবং বিশ্বকাপের দ্রুততম খেলোয়াড় হিসেবে।
ফিফার এই পরিসংখ্যান আবারও প্রমাণ করল, আধুনিক ফুটবলে গতি একটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হলেও শিরোপা জয়ের জন্য সেটিই একমাত্র নির্ধারক নয়। স্পেন কোনো খেলোয়াড়কে শীর্ষ ১০০ দ্রুততমের তালিকায় রাখতে না পারলেও দুর্দান্ত দলগত সমন্বয়, বলের দখল এবং কৌশলগত ফুটবল খেলেই ২০২৬ বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে।
