Law Courts

নামের মিলে ভুল ব্যক্তির ৪ মাস কারাভোগ, ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়ে আপস

ন ম র ম ল ভ ল - চেক ডিজঅনার মামলায় নামের মিলের কারণে ভুল ব্যক্তিকে আসামি করে প্রায় চার মাস কারাভোগের ঘটনা। ভুক্তভোগীর কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ৩০ লাখ টাকা

Desk Law Courts
Published July 23, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments
Foto : Richard Moore - bangladailypost.com

নামের মিলে ভুলে কারাগারে, ৩০ লাখ টাকায় আপস

Bangladailypost.com – ন ম র ম ল ভ ল – চেক ডিজঅনার মামলায় নামের মিলের কারণে ভুল ব্যক্তিকে আসামি করে প্রায় চার মাস কারাভোগের ঘটনা। ভুক্তভোগীর কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়েছে বাদীপক্ষ। ক্ষতিপূরণ গ্রহণের পর দাওয়াীদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ প্রত্যাহার করেছেন ভুক্তভোগী। আদালত সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ঢাকার চতুর্থ যুগ্ম মহানগর দাওয়ারা জজ তানিশা সুলতানা লিপির আদালতে উভয় পক্ষ আপস-মীমাংসার নথি জমা দিলে আদালত তা গ্রহণ করেন।

আদালতে উপস্থিত ছিলেন উভয় পক্ষ

বুধবার (২৩ জুলাই) দুপুরে জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মিঞা ইব্রাহিম খলিল অপু এবং ভুক্তভোগী মামুন মিঞার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাদেকুল ইসলাম ভূঁইয়া জাদু। আদালতে আপস-মীমাংসার সময় ভুক্তভোগী মামুন মিঞা, তার আইনজীবী এবং বিশ্বাস পোল্ট্রি অ্যান্ড ফিস ফিডস লিমিটেডের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

নামের মিলের কারণে তিনি অন্যায়ভাবে প্রায় চার মাস কারাগারে ছিলেন। মুক্তির পর দাওয়াীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন। পরে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলে তিনি অভিযোগ প্রত্যাহার করেন।

আইনজীবীর বক্তব্য

ভুক্তভোগীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাদেকুল ইসলাম ভূঁইয়া জাদু বলেন, বিশ্বাস পোল্ট্রি অ্যান্ড ফিস ফিডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিঃশর্তভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং ক্ষতিপূরণ দিয়েছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল আর হবে না বলে আশ্বাস দেওয়া। অভিযোগ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বক্তব্য

প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি মাকসুদুল হক ওয়ালিদ বলেন, কয়েকজন কর্মকর্তার ভুলের কারণে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। এরইমধ্যে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তাদের সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আদালতের পরামর্শে উভয় পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছেছে।

মামলার বিস্তারিত ইতিহাস

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ৩২ লাখ টাকার একটি চেক ডিজঅনার হওয়ার ঘটনায় নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস আইনের ১৩৮ ধারায় মামলা করা হয়। বিচার শেষে ২০২৫ সালের ২৯ জুন আদালত এক ব্যক্তিকে এক বছরের কারাদণ্ড ও ৩২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন। পরে ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতে মামুন মিঞাকে গ্রেফতার করা হয়।

কিন্তু তিনি আদালতে দাবি করেন, তিনি ওই মামলার প্রকৃত আসামি নন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব বা চেকের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। এরপর আদালতের নির্দেশে তদন্ত করে নরসিংদীর শিবপুর মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদন দেন যে, কারাগারে থাকা মামুন মিঞা প্রকৃত আসামি নন; কেবল নামের মিলের কারণে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর গত ১৯ মে আদালত তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। পরদিন তিনি কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান। মুক্তির পর অন্যায়ভাবে কারাভোগের জন্য দাওয়াীদের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ ও শাস্তির আবেদন করেন মামুন মিঞা। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বাদীপক্ষ ক্ষমা প্রার্থনা, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং সমঝোতার মাধ্যমে বিরোধের অবসান ঘটে।

Leave a Comment