ইংল্যান্ডে জন্ম নিয়েও কেন নরওয়ের হয়ে খেলছেন হালান্ড?
ই ল য ন ড জন ম – বিশ্বকাপের তৃতীয় পর্বে ইংল্যান্ড এবং নরওয়ে মুখোমুখি হবে। ম্যাচটির একটি মূল আকর্ষণ হলো নরওয়ের স্টার স্ট্রাইকার আরলিং হালান্ড। বাবার কারণে এই খেলোয়াড় ইংলিশ জাতীয় দলের হয়ে খেলতে পারেন নি, যদিও তার জন্ম ইংল্যান্ডের লিডস শহরে।
হালান্ডের জন্ম ঘটে ২০০০ সালের ২১ জুলাই। তার বাবা আলফি হালান্ড এই সময় ইংলিশ ক্লাব লিডস ইউনাইটেডে খেলতেন। কিন্তু বাবার ক্যারিয়ার শেষ হয়ে গেলে পরিবার নরওয়েতে চলে যায়। সেখানে তিনি বড় হন এবং ব্রিনে ক্লাবের একাডেমিতে ফুটবলে আগ্রহ জাগানো হয়।
‘আমি ইংল্যান্ডে সাড়ে তিন থেকে চার বছর ছিলাম, কিন্তু নরওয়েতে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছি। তাই নরওয়েকে বেছে নেওয়া আমার জন্য স্বাভাবিক ছিল। বাবা যদি আরও অনেক বছর ইংল্যান্ডে খেলতেন, তাহলে হয়তো আমি ইংলিশ হয়ে উঠতাম। কিন্তু আমি নরওয়েজিয়ান, আর সেটা নিয়ে আমি গর্বিত।’
২০২০ সালে ইংল্যান্ডের কোচ গ্যারেথ সাউথগেট হালান্ডের ইংল্যান্ডে খেলার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করেন। তিনি জবাব দেন, ‘হালান্ড জাতীয় দলের প্রতি আনুগত্য রেখেছেন। তাই যে দেশে খেলছেন, সেই দেশকে সম্মান করা উচিত।’
২০১৯ সালে হালান্ড নরওয়ের জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক করেন। তার পর থেকে তিনি ৫৪ ম্যাচে ৬২টি গোল করেছেন এবং ৭টি অ্যাসিস্ট দিয়েছেন। অনেকে ভাবতেন নরওয়ে বিশ্বকাপে উঠতে পারে না। কারণ তারা ১৯৯৮ সালের পর দীর্ঘ ২৮ বছর এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেনি। কিন্তু হালান্ডের নেতৃত্বে নরওয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে অংশ নেয়।
টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত হালান্ড সাতটি গোল করেছেন, যা তাকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতার পদবী দিয়েছে। কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং লিওনেল মেসি তার চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন যাদের গোল সংখ্যা আটটি। বর্তমানে তিনি ইংল্যান্ডের ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটির তারকা হিসেবে পরিচিত, কিন্তু নরওয়েতে নিয়মিত ফিরে আসেন।
তার জাতীয় দলে খেলার নাম শুধু ‘হালান্ড’ নয়, ‘ব্রাউট হালান্ড’ হিসেবে ব্যবহার করেন। কারণ ‘ব্রাউট’ হলো তার মায়ের পারিবারিক নাম। এটি নরওয়ের একটি ঐতিহ্য যে খেলোয়াড়ের মাতালুক ও পিতালুক নাম একত্রে ব্যবহার করা হয়।