Probash

সিডনির সিটি টু সার্ফ’র আনন্দ ভ্রমণ

স ডন র স ট ট স - ১৯৭১ সাল থেকে প্রতি বছর অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে আয়োজিত হয় বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম গণদৌড় প্রতিযোগিতা — সিটি টু সার্ফ। সিডনির সেন্ট্রাল বিজনেস

Desk Probash
Published August 17, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments
og_1786938020_6a8282a425ee3
Foto : Daniel Williams - bangladailypost.com
Table of Contents
  1. সিডনির সিটি টু সার্ফ: আনন্দভ্রমণের গল্প
  2. Related Reading
  3. Frequently Asked Questions

সিডনির সিটি টু সার্ফ: আনন্দভ্রমণের গল্প

Bangladailypost.com – স ডন র স ট ট স – ১৯৭১ সাল থেকে প্রতি বছর অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে আয়োজিত হয় বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম গণদৌড় প্রতিযোগিতা — সিটি টু সার্ফ। সিডনির সেন্ট্রাল বিজনেস ডিস্ট্রিক্টের হাইড পার্ক থেকে যাত্রা শুরু হয়ে বন্ডাই সৈকতে সমাপ্তি ঘটে। মোট দূরত্ব ১৪ কিলোমিটার। প্রতিবার লাখো মানুষ এই পথে পা বাড়ান।

নামের পেছনের কারণ

এই প্রতিযোগিতার নামকরণ নিয়ে আমার একটা ব্যাখ্যা আছে। যাত্রা শুরু হয় শহরের কেন্দ্র থেকে, আর সমাপ্তি ঘটে বন্ডাই সৈকতে — যেখানে সার্ফিং করা হয়। অজিদের কাছে এবং ভ্রমণপিছুদের কাছে বন্ডাই সৈকত অন্যতম প্রিয় গন্তব্য। তাই নামটা হলো সিটি টু সার্ফ।

রঙের বিভাজন ও আমার পছন্দ

গতির ওপর ভিত্তি করে প্রতিযোগিতাটিকে একাধিক রঙে ভাগ করা হয়। আমি সবসময় শেষের দিকের অরেঞ্জ বিভাগের টিকিট নিই। কারণ দুটো: প্রথমত, আমি প্রতিযোগিতা পছন্দ করি না; দ্বিতীয়ত, আমি কোনো পেশাদার দৌড়বিদ নই। আমার উদ্দেশ্য মূলত এই উৎসবের আবহ উপভোগ করা। সত্যি কথা বলতে, প্রতিটি মুহূর্ত আমি মনপ্রাণ ভরে উপভোগ করি।

গত কয়েক বছর ধরে আমি এই দৌড়ে অংশ নিচ্ছি। গতবার বাচ্চাদেরও নিয়ে গিয়েছিলাম। শেষ করতে ওদের অনেক কষ্ট হয়েছিল, তাই এবার একাই অংশ নিয়েছি।

অজিদের ভাষা ও মানসিকতা

অস্ট্রেলিয়ানরা জীবনকে সহজ করতে ভাষাটাকেও নিজেদের মতো করে বদলে ফেলেছে। ইংরেজি হলেও অস্ট্রেলিয়ান উচ্চারণ আলাদা। কঠিন বা বড় শব্দগুলোকে তারা সংকোচ করে নেয়। পথে ঘাটে পরিচিত বা অপরিচিত কাউকে শুভেচ্ছা জানানো তাদের স্বাভাবিক সৌজন্যের অংশ। সেখানে শুরু হয় গুড মর্নিং বা গুড আফটারনুন দিয়ে। তবে আফটারনুনকে তারা বলে ‘আরভো’। এরপর ‘হাউ আর ইউ’ এমনভাবে উচ্চারিত হয় যে শোনা যায় ‘হাউ আ ইয়া’। অস্ট্রেলিয়ায় জীবনের শুরুতে এটা বুঝতে আমার কয়েক বছর লেগে গিয়েছিল।

‘অস্ট্রেলিয়ান’ শব্দটা উচ্চারণ করতে অনেক সময় ক্ষেপণ হয়, তাই সেটা হয়ে গেছে ‘অজি’। যেকোনো প্রতিযোগিতায় অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে তাদের মূল স্লোগান হলো:

অজি অজি অজি / ঐ ঐ ঐ

আপাতদৃষ্টিতে এর কোনো অর্থ নেই মনে হলেও, সব অজিদের একই সুতোয় বাঁধে এই স্লোগান। বাংলাদেশের মানুষের উৎসবপ্রীতি বুঝানোর জন্য যেমন বলা হয় — বারো হাত কাকুরের তেরো হাত বিচি। অজিরাও তেমনি ভীষণ রকমের উৎসবপ্রীতি জাতি। সারা বছরই কোনো না কোনো উৎসব চলতেই থাকে। শীতকালের শেষের দিকে এসে প্রতি বছর এই দৌড় প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়।

রোববার, ৯ আগস্ট — দৌড়ের দিন

অরেঞ্জ রঙের দৌড় শুরু হওয়ার সময় ছিল সকাল সাতটা বেজে ২৭ মিনিট। সবাইকে অন্ততপক্ষে ৪৫ মিনিট আগেই হাজির থাকতে বলা হয়েছিল। আমিও সেটা মাথায় রেখে আগেভাগেই ট্রেনে চড়ে বসলাম। ট্রেনে যেতে যেতে অন্যান্য স্টেশন থেকে আরও অনেকেই উঠলেন, যারা সিটি টু সার্ফ-এ যাচ্ছেন।

সেন্ট জেমস স্টেশনে নেমে ম্যাকুয়ারি স্ট্রিট এ এক্সিট নিলাম। শাড়ি পরা এক মহিলার সাথে বের হতেই দেখি লোকে লোকারণ্য। তখনও অরেঞ্জ রঙের দৌড় শুরু হয়নি। সবাই শান্তভাবে অপেক্ষা করছেন। আমিও সেই দলে ভিড়ে গেলাম।

ওখানে পরিচয় হলো এক দম্পতির সাথে। তাদের বয়স আশির কোটা ছাড়িয়ে গেছে। অনেকদিন পর আবারও এসেছেন তাই বেশ উচ্ছসিত দেখাচ্ছিল। এরপর আমরা একটু এগিয়ে শুরুর লাইনের দিকে গেলাম। শুরুর লাইনের অন্যদিকে তখন ইয়েলো রঙের প্রতিযোগীরা অপেক্ষা করছিল। দূর থেকে শুধু তাদের মাথাগুলোকে বিন্দুর মতো দেখাচ্ছিল। অবশ্য বড় পর্দায় তাদের দেখা যাচ্ছিল।

এর মধ্যেই ডিজে এসে আমাদের দলের অনেকের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়সহ কে কোথা থেকে এসেছেন — এইসব জেনে নিচ্ছিল। ইয়েলো রঙের সবাই চলে যাওয়ার পর অরেঞ্জের জন্য পথ খুলে দেওয়া হলো।

পথে অভিজ্ঞতা

কমবয়সীরা তখনই দৌড় শুরু করলো। তাদের দেখাদেখি আমার সাথে থাকা দুজনও দৌড় দিচ্ছিল। আমি বললাম — সেইভ ইউর এনার্জি। বাকি রাস্তাটা কিন্তু বেশ কঠিন। অনেক উঁচু-নিচু আছে। এরপর বললাম, তোমরা তোমাদের মতো করে উপভোগ করো। আমি এগিয়ে যাচ্ছি। বলেই আমি আবার জনসমুদ্রে হারিয়ে গেলাম।

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও রাস্তার রাস্তার প্রতিযোগীদের উজ্জীবিত করতে বিভিন্ন বিনোদনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। বিভিন্ন জাতি ও সংস্কৃতির মানুষ তাদের নিজস্ব সংগীত ও নৃত্যকলা পরিবেশন করছিল। কিছুদূর পরপরই ছিল পানি পান করার ব্যবস্থা।

এছাড়াও অনেকেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রতিযোগিতার বিভিন্ন বিভাগের টিকিট অনলাইনে ছাড়ার সাথে সাথেই প্রায় শেষ হয়ে যায়। আমি তাই আগেভাগেই টিকিট করে নিয়েছিলাম। কত দেশের মানুষ যে এতে অংশ নেন, তার কোনো পরিসংখ্যান নেই। দাদা-দাদি আসেন নাতি-নাতিকে নিয়ে, বাবা-মা আসেন ছেলে-মেয়েকে নিয়ে, উঠতি বয়সীরা আসেন বন্ধুবান্ধব মিলে দলবদ্ধ হয়ে।

Frequently Asked Questions

What is স ডন র স ট ট স?

স ডন র স ট ট স is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does স ডন র স ট ট স matter?

স ডন র স ট ট স matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Comment