মেলেনি বরাদ্দের চাল, জেলেপল্লিতে হতাশা
ম ল ন বর দ দ র – পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রতিদিন নানা স্থানে সাজার কাজ চালানো হচ্ছে, কিন্তু এখন তা অবহেলা করা হয়েছে। পিরোজপুরের জেলে পল্লিগুলোতে উৎসবের আমেজ দেখা যাচ্ছে না। সাগরে মাছ ধরার জন্য প্রতি দিন কর্মহীন হয়ে পড়েছেন জেলার প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার নিবন্ধিত সমুদ্রগামী জেলে। সরকারি নিষেধাজ্ঞার পাঁচ সপ্তাহ পার হলেও বেশিরভাগ জেলে এখনো সরকারি বরাদ্দের চাল পাননি। এতে তারা পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
জেলা পাড়েরহাট ও মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ঘাটে সারি সারি নোঙর করে রাখা হয়েছে মাছ ধরার ট্রলার। সাগরে যাওয়া সম্ভব না হওয়ায় প্রায় সব ট্রলারে মেরামতের কাজ চলছে। যে স্থানে আগে ভোর থেকে লাখ লাখ টাকার মাছ বেচাকেনা চলত, এখন সেখানে নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে। কোনো কোলাহল কিংবা ব্যস্ততা নেই। কেউ জাল বুনছেন, কেউ ট্রলার মেরামতে ব্যস্ত। অনেকে কাজের অভাবে বাড়ি ফিরে গেছেন। কেউ কেউ জীবিকার তাগিদে অন্যের বাড়িতে বদলা শ্রম দিয়া চলতে হয়।
তরিকুল ইসলাম/এসআর/জেআইএম
জেলেদের দাবি, নিষেধাজ্ঞার সময় বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হলে তারা পরিবার নিয়ে এতটা সংকটে পড়তেন না। এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সঞ্জীব সন্নামত বলেন, সাগরে মাছ ধরায় সরকার নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এর অংশ হিসেবে জেলায় পাঁচ হাজার ৩৯৩ জন জেলের মাঝে পরিবারপ্রতি ৭৭ দশমিক ৩৩ কেজি হারে মোট ৪১৭ দশমিক ০৪১ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কেউ বাদ পড়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার মাধ্যমে নিবন্ধিত হয়ে পরবর্তী সময়ে সহায়তা পাবেন।
মোগো দিন খুব খারাপ যায়। বর্তমানে কোনো আয় নাই। সরকার যদি কোনো সহযোগিতা বা কাজের ব্যবস্থা করতো, তাইলে নাতি-পুতি নিয়া একটু ভালো থাহা যাইতো।
এই অবরোধের মধ্যে আমরা জাল হারতেছি (মেরামত করছি)। কোনো ঈদ নাই আমাগো। সপ্তাহে এক-দুইদিন কাজ হয়। এতদিন অবরোধ গেল, এহনও চাল পাই নাই। লোনের কিস্তির জন্য লোক আইয়া বইয়া থাহে। মাইয়া-পোলারে পড়াইতেও পারি না।
আমার স্বামীর কোনো ইনকাম নাই। এককেজি চাল আনলে দুইদিন খাই। নিজে না খাইয়া থাকি, নাতিগো খাবার দিতে হয়। না থাকলে পামু কোতায়?
জেলেদের পরিবারের অবস্থা বিষয়ে তিনি আরও বলেন, চাল বিতরণে কোন�