ভারতে মুসলিমরা কেন গরুকে ‘জাতীয় পশু’ ঘোষণা চান?
ভ রত ম সল মর ক ন – বিজেপি এবং আরএসএস-এর প্রধান রাজনৈতিক এজেন্ডার একটি অংশ হিসেবে বিশেষ করে গো-রক্ষা বিষয়ে সাধারণত কড়া কড়ি বিধিবিধান চালু করার দাবি তুলেছে ভারতের নানা মুসলিম সংগঠন। তাদের মতে গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণা করা হলে দেশজুড়ে একটি একক আইন প্রবর্তন ঘটবে, যা গো-হত্যার সম্পর্কে সহিংসতার সৃষ্টি প্রতিরোধ করতে সাহায্য করবে। এ দাবি ঈদুল আজহার ঠিক আগে উঠেছে যে আয়োজন ঘটনায়।
বর্তমানে ভারতের জাতীয় পশু বাঘ। তবে মুসলিম নেতাদের দাবি মতে এই সূত্র থেকে গরুকেও জাতীয় মর্যাদা দেওয়া উচিত। তারা স্পষ্ট করে বলেন, সরকারের গো-রক্ষা নীতি সমস্ত রাজ্যে একই প্রকার হওয়া উচিত, বৈষম্যমূলক নয়।
মুসলিম নেতাদের দাবি
মোদী বিজেপি অল ইন্ডিয়া মুসলিম জামায়াতের জাতীয় সভাপতি মাওলানা শাহাবুদ্দিন রাজভি বার্তা সংস্থা পিটিআইকে জানান, এ বিষয়ে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে একটি যৌথ স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তিনি বলেন, গো-রক্ষা দীর্ঘকাল ধরেই বিজেপি এবং আরএসএস-এর প্রধান রাজনৈতিক পরিকল্পনা।
তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের গো-রক্ষা নীতি সমস্ত রাজ্যে একই প্রকার হওয়া উচিত, বৈষম্যমূলক নয়।
অল ইন্ডিয়া শিয়া পার্সোনাল ল বোর্ডের মাওলানা ইয়াসুব আব্বাস বলেন, হিন্দু ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েই গরুকে এই মর্যাদা দেওয়া উচিত। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আগেও তিনি মুম্বাইয়ের একটি সর্বধর্ম সম্মেলনে এই দাবি তুলেছিলেন।
তিনি গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণা করার পাশাপাশি এর জবাই ও ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান।
বিজেপি গো-রক্ষা আন্দোলনের সমালোচনা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, একদিকে দেশে গো-হত্যার নামে কড়াকড়ি চলছে, অন্যদিকে বিজেপি আমলে ভারত বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ গরুর মাংস রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
বিজেপি শাসিত গোয়া, আসাম এবং উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলোতে অবাধে গরুর মাংস খাওয়া হচ্ছে, অথচ উত্তর প্রদেশ বা উত্তরাখণ্ডে কঠোর অবস্থান নেওয়া হচ্ছে। ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগের কাউসার হায়াত খান এই দাবিকে সমর্থন করে বলেন, বিজেপির নীতিতে গরুর মাংস নিয়ে চরম বৈষম্য ও দ্বিমুখী আচরণ রয়েছে।
এ দাবি চলতি মাসে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর একটি নতুন আইন উঠেছে যেখানে ১৪ বছরের বেশি বয়সের গরু জবাইয়ের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
সুত্র: হিন