ঈদের আগে শাহজাহানপুর ও কমলাপুর পশুর হাট জমজমাট হয়েছে
ব ষ ট ক দ উপ ক – ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর শাহজাহানপুর ও কমলাপুর পশুর হাটে বেচাকেনার স্থান গুরুতর পরিমাণে পূর্ণ হয়েছে। সকাল থেকে দুই হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড় দেখা গেল, কিন্তু দুপুরে আকস্মিক বৃষ্টি কিছু সময় জন্য হাটের কার্যক্রম ব্যাহত করে। বৃষ্টি ও কাদা পানির কারণে ব্যাপারী ও ক্রেতারা বেশি কষ্ট স্বাভাবিক করে না।
মঙ্গলবার (২৬ মে) সরেজমিন দেখা যায়, হাটে ক্রেতাদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। অনেকে পরিবার সহ গরু দেখতে আসেন। দুপুর ১২টার দিকে ভারী বৃষ্টি শুরু হওয়ায় পশুর হাটে পরিবেশ বদলে যায়। কোথাও কোথাও পানি জমে কাদা তৈরি হয়, ফলে হাঁটাচলা ও পশু বসানো কঠিন হয়ে পড়ে।
শাহজাহানপুর হাটে কুষ্টিয়া থেকে আসা ব্যাপারী শামীম মিয়া বলেন, সকালে বিক্রি ভালো থাকলেও দুপুরের বৃষ্টি পুরো হিসাব এলোমেলো করে দিয়েছে। গতকালও বৃষ্টি হয়েছে, আজও দুই দফা বৃষ্টি হয়েছে।
একই হাটে পাবনা থেকে আসা ব্যাপারী সাইদুল ইসলাম জানান, পানি জমে যাওয়ায় গরু নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকাও কঠিন হয়ে গেছে। খড় ভিজে যাওয়ায় পশুর দেখভাল ও বসানো ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা যায়। তিনি অভিযোগ করেন, হাটে পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই, যা পরিস্থিতি আরও খারাপ করেছে।
কমলাপুর হাটে অনেক ব্যাপারী ত্রিপল টাঙিয়ে এবং কেউ কেউ ভিজে গরু সামলাতে ব্যস্ত ছিলেন। সিরাজগঞ্জ থেকে আসা ব্যাপারী মিন্টু মিয়া বলেন, একেকটি গরু আনতে অনেক খরচ হয়েছে। এখন বিক্রি না হলে বড় লোকসানে পড়তে হবে।
চুয়াডাঙ্গা থেকে আসা নুর ইসলাম জানান, দুপুরের পর কাদা-পানির কারণে ক্রেতারা গরুর কাছে আসতে চাইছিলেন না। ঈদের আর খুব অল্প সময় বাকি, এমন পরিস্থিতি আমাদের জন্য বিপজ্জনক।
তবে বিকেলের দিকে হাটে প্রাণ ফিরতে শুরু করে। কাদা-পানির মধ্যেও ক্রেতারা গরু কিনতে দেখা গেছে। শেষ মুহূর্তের ভিড় ও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কায় অনেকে দ্রুত পশু কেনার চেষ্টা করেন। হাটের সংশ্লিষ্ট ব্যাপারী বলেন, ঈদের আগে সাধারণত বিকেল ও সন্ধ্যার দিকে পশুর হাটে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ে। দুপুরের বৃষ্টির কারণে কিছু সময় বেচাকেনা কমে গেলেও সন্ধ্যার পর আবার জমে ওঠে হাট।
যদিও টানা বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বেচাকেনায় প্রভাব পড়তে পারে, কিন্তু সার্বিকভাবে দেখা গেছে যে ভোগান্তি থাকলেও হাটগুলোতে বেচাকেনা জমে উঠেছে।