‘দাম শুনে ব্যাপারীরা মুচকি হাসেন’
দ ম শ ন ব য প – ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ি, কেরানীগঞ্জ ও হাজারীবাগে শিক্ষার্থী সাদমান সাকিবুজ্জামান টানা তিন দিন বাজারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। গত বছর হাসিলসহ ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায় গরু কিনতে পেরেছিলেন তিনি। কিন্তু এবার দাম আরও বাড়িয়ে তিন লাখ টাকার বাজারে তারা গরু মেলাতে পারছেন না।
সাদমান বলেন, সারাদিন বৃষ্টিতে ভিজে দিয়াবাড়ি ও হাজারীবাগের হাটে ঘুরে এইমাত্র বাসায় আসেন। বাজারে অনেক গরু আছে, কিন্তু ব্যাপারীরা দাম ছাড়ছেন না। দাম বাড়ছে বলে তারা মুচকি হাসেন। সাদমান বলেন, বুঝতে পারছি না গরুর দাম শেষ পর্যন্ত এরকমই চড়া থাকবে কি না।
দেড় লাখ টাকার বাজারে গরু কিনতে হতে পারে বলে জানান সাদমান। অতিরিক্ত দাম হাঁকছেন ব্যাপারীরা। দাম বললে তারা মুচকি হাসেন।
বিক্রেতারাও দরদাম চেয়ে ক্রেতাদের মনোভাব বোঝার চেষ্টা করছেন। দুই লাখ টাকা দামের মধ্যে কিছু গরু বিক্রি হচ্ছে এখনো বিক্রেতারা ক্রেতাদের ধারণা অনুযায়ী দাম কমবে বলে আশা করছেন।
কোরবানির পশু দাম বেড়েছে
বেসরকারি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী গাজি সালাহউদ্দিন সোমবার সন্ধ্যায় শাহজাহানপুর গরুর হাটে গিয়েছিলেন বাবা ও দুই ভাইয়ের সঙ্গে। তিনি জানান, ঈদের আগে হাটে কোরবানির পশু বিক্রি বাড়বে বলে আশা করছেন ক্রেতারা। কিন্তু বর্তমানে গরুর দাম গতবারের চেয়ে বেশি মনে হচ্ছে।
বৃষ্টিতে ভিজে দিয়াবাড়ি ও হাজারীবাগের হাটে ঘুরে এইমাত্র বাসায় এলাম বলে সাদমান। বাজারে প্রচুর গরু আছে, কিন্তু ব্যাপারীরা দামে ছাড় দিচ্ছেন না। অতিরিক্ত দাম হাঁকছেন। আমরা দাম বললে তারা মুচকি হাসেন।
ঢাকার আশকোনার বাসিন্দা নুরুল আলম লিটন বলেন, প্রতি বছর জোড়া গরু কোরবানি দেন। গতবছর চার লাখ টাকায় দুটি গরু কিনতে পারলেও এবার একই সাইজের গরু পাঁচ লাখের বেশি দাম চাইছেন ব্যাপারীরা। ক্রেতাদের ধারণা, ঈদের আগে দুদিন মঙ্গল ও বুধবার হাটে কোরবানির পশু বিক্রি বাড়বে এবং দাম কিছুটা কমতে পারে।
আজিমপুরের বাসিন্দা ভিকারুন নিসা নূন স্কুলের শিক্ষার্থী নুসাইবা জামান বলেন, তার বান্ধবীদের বাবা ও ভাইয়েরা হাটে গিয়ে গরু কিনতে পারছেন না। বাজারে অনেক গরু আছে, কিন্তু দামে মিলছে না। বান্ধবীরা একে অন্যকে ফোন করে বলছেন, ‘দোস্ত বাজারে গরু অনেক, কিন্তু দামে মিলছে না। ব্যাপারীরা দাম ছাড়ছেন না।’