সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা / মাত্রাতিরিক্ত লবণ গ্রহণ জনস্বাস্থ্যের জন্য নীরব হুমকি
স ম ন র ব শ ষজ – বর্তমানে খাদ্য সামগ্রীতে অতিরিক্ত লবণের ব্যবহার একটি স্বাস্থ্য হুমকি হিসেবে পরিচিত হয়েছে। অজান্তেই উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে এটি বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত খাদ্যে লবণের বেশি পরিমাণ প্রকৃতপক্ষে ভোক্তাদের উদ্বেগের বিষয়। সেমিনারে এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে বিশ্ব লবণ সচেতনতা সপ্তাহের উপলক্ষে আয়োজিত একটি জনসচেতনতা মূলক আলোচনায়।
১৩ মে বুধবার আয়োজিত এ সেমিনারে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফারুক আহম্মেদ বলেন, খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সঠিক পুষ্টি তথ্য চিহ্নিত করতে এবং সেগুলো কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে বাধ্যতামূলক কাজ করতে হবে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো সমন্বয় করে জনস্বাস্থ্য নীতি আরও কার্যকর করতে হবে, যা স্বাস্থ্যকর খাদ্য নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ারুল ইসলাম প্রতিপাদ্য প্রধান অতিথি হিসেবে আসেন। সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. মোহাম্মদ শোয়েব। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে স্বীকৃত। অতিরিক্ত লবণ উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগ বিষয়ে বিপজ্জনক কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্বাস্থ্য ঝুঁকি বৃদ্ধি করছে লবণ গ্রহণ
বাংলাদেশে প্রতি চারজনের মধ্যে একজন উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি নিয়ন্ত্রণে থাকে না। ডা. আহমাদ খাইরুল আববার উপস্থাপন করেন একটি প্রবন্ধে বলা হয়, দেশে মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশ অসংক্রামক রোগের কারণে ঘটে। তার মধ্যে ৫১ শতাংশ মানুষ অকালে মারা যান।
“বাংলাদেশে প্রতি চারজনের মধ্যে একজন উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা নিয়ন্ত্রণে থাকে না।”
ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত খাবারে লুকায়িত লবণ বিদ্যমান। চিপস, চানাচুর, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, আচার, স্যুপ ও বিস্কুট সহ বিভিন্ন জনপ্রিয় খাদ্যে উচ্চ সোডিয়াম পরিমাণ থাকে। অনেক মিষ্টি স্বাদের খাবারেও অতিরিক্ত লবণ নির্দিষ্ট করা হয়েছে, যা অধিকাংশ ভোক্তার জন্য অজানা।
“মানুষ অজান্তেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ করছেন।”
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত