লালবাতি জ্বললেই থামছে যানবাহন
ল লব ত জ বলল ই থ – ডিএমপির এআই ক্যামেরা-নিয়ন্ত্রিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালু হওয়ার পর রাজধানীর সোনারগাঁও মোড় সার্ক ফোয়ারা চত্বরে দাঁড়িয়ে ছিলেন ট্রাফিক কনস্টেবল নুর মোহাম্মদ। কারওয়ান বাজার, বাংলামোটর এবং কাঁঠালবাগান এলাকার সবচেয়ে ব্যস্ত ট্রাফিক মোড়ে তিনি নির্ভার পরিবেশে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে এমন দৃশ্য দেখা যায় যেখানে গাড়ি চালকরা সিগন্যাল মেনে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করছেন। ব্যস্ততম এ সড়কে মাসখানেক আগেও যানবাহন সামলাতে গলদঘর্ম হতে হতো।
ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নবনিযুক্ত কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও ইন্টারসেকশনগুলোতে আধুনিক এআই চালিত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এগুলো সিগন্যাল অমান্য, উল্টোপথে গাড়ি চালানো ও অবৈধ পার্কিং সহ মোটরযান আইন লঙ্ঘনের ঘটনা স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেকর্ড করে। এ ব্যবস্থার কারণে সবারই সুবিধা হয়েছে। আমাদের যেমন সুবিধা হয়েছে তেমনি জনগণেরও হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘যানবাহনের চাপের ওপর ভিত্তি করে সিগন্যালের সময়ও নির্ধারণ করা হচ্ছে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা ও জরিমানার আশঙ্কাই সিগন্যাল মানার অন্যতম কারণ।’
রাজধানীতে প্রায় ৩০টি সিগন্যাল ও ট্রাফিক ক্রসিংয়ে এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে বাংলামোটর ও হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ক্রসিংয়ে দেখা যায় বেশির ভাগ যানবাহন এক থেকে দেড় মিনিটের সিগন্যাল মেনে চলছে। কিছু গাড়ি রাস্তা ফাঁকা দেখে এগিয়ে আসলে ট্রাফিক পুলিশ তাদের থামিয়ে সতর্ক করে দিচ্ছেন।
গণমাধ্যমের ভূমিকা সম্পর্কে নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘অনেক চালক নিয়ম মানলেও ঢাকার বাইরে থেকে আসা অনেক ব্যক্তি এআই ক্যামেরা ব্যবস্থার বিষয়ে ভালোভাবে জানেন না। তারা অনেকে আগের মতো সিগন্যাল অমান্য করছেন।’ ইস্কাটনের বাসিন্দা নাসরীন আক্তার বলেন, ‘শুধু আইন থাকলেই হয় না, আইনের যথাযথ প্রয়োগের ব্যবস্থাও থাকতে হয়।’
ট্রাফিক পুলিশের কাজ সহজ হয়েছে
মাঠপর্যায়ে কর্মরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা জানান, আগে সিগন্যাল মানা ও না মানা নিয়ে যানবাহনের চালক ও মালিকদের সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক হতো। এখন ক্যামেরায় সবকিছু ধারণ হওয়ায় তেমন ঝামেলা নেই। এসব আধুনিক ক্যামেরা লালবাতি অমান্য করা, স্টপ লাইন বা জেব্রা ক্রসিং অতিক্রম করা, উল্টোপথে গাড়ি চালানো ও লেন ভঙ্গ করা সহ অনেক নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করে। ডিএমপি তথ্য অনুযায়ী মে মাসের প্রথম সপ্তাহে ব্যবস্থা চালু হয়।
গত ২০ মে পর্যন্ত ট্রাফিক বিভাগ যাচাই-বাছাই শেষে ৬১১টি মামলা করে। এর আগে ১১ মে পর্যন্ত প্রথম এক সপ্তাহে কমপক্ষে ৩০০টি মামলা করা হয়। পর্যায়ক্রমে রাজধানীতে অন্তত ৫০০টি সিগন্যালে এই প্রযুক্তির ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলছে। গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক ক্রসিংগুলোর মধ্যে রয়েছে শাহবাগ মোড়, ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল মোড়, বাংলামোটর ও জাহাঙ্গীর গেট।