প্রতিষ্ঠাকালীন উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
প রত ষ ঠ ক ল ন – ৪৭ বছর পর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া এখন নিজস্ব চরিত্র হারিয়ে সাধারণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামান্য রূপ ধারণ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নির্দেশে গঠিত ‘বারী কমিটি’ কর্তৃক। এই কমিটি ছিল প্রথম বিশ্ব মুসলমান শিক্ষা সম্মেলনে মুসলিম বিশ্বে আধুনিক ও ইসলামি শিক্ষার মিশ্রণ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছিল।
১৯৭৭ সালে সম্মেলনের পর রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ড. এম এ বারীকে চেয়ারম্যান করে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি কমিটি গঠন করেন। কমিটির সদস্যদের মধ্যে ছিলেন আহমেদ হুসাইন, এ হাদী তালুকদার, এম এ মুক্তাদির, এখলাসউদ্দিন আহমেদ, এ কে এম আইয়ুব আলী এবং মুহাম্মদ আবদুস সালাম। প্রতিবেদনে ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গির সংযোজনের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল, কিন্তু বর্তমানে তা পূরণ হয়নি।
“বিশ্ববিদ্যালয়ে উপনিবেশবাদ ও ‘এডুকেশনাল জিহাদ’ বিষয়ে সমালোচনা করা হয়েছে।”
১৯৭৯ সালের ২২ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরবর্তী বছরগুলোতে শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক ব্লক করে আন্দোলনে সরকার ক্ষুব্ধ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি গাজীপুরের বোর্ড বাজারে স্থানান্তর করে। পরে ফিরিয়ে আনার পর নতুন পরিচালনা শুরু হয়।
বারী কমিটির প্রতিবেদনে মুসলিমদের বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণের উদ্দেশ্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। ধারা ২.২ ও ২.৩.২ তে ইসলামি শিক্ষার সমন্বয়ে ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দৃঢ় সমালোচনা করেছে।
বর্তমানে কনসার্ট চলাকালীন শিক্ষার্থীরা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামিয়াতের অনুপস্থিতি দৃশ্যমান। ধারা ৩.৪ অনুযায়ী পাঠ্যপুস্তকে ইসলামের সাংঘর্ষিক চিন্তাভাবনা মুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তা আদৌ পালন হয়নি।
১৯৮৮ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত জেনারেল ও মাদরাসা থেকে সমান সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি করার নিয়ম ছিল। পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণদের বহিষ্কারের ধারা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আজ তার প্রতিষ্ঠাকালীন লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়েছে বলে মনে করছেন গবেষক ও শিক্ষাবিদরা।
৫.৫ ধারায় উপাচার্য সম্পাদিত প্রতিবেদনে সব অনুষদের শিক্ষার্থীদের প্রথম বর্ষে তিনটি ব্যাকগ্রাউন্ড কোর্স—আরবি ভাষা, অন্য বিদেশি ভাষা এবং কুরআন-হাদিস-আকাইদ সম্বলিত ইসলামিয়াতে পাস করার নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে এই নীতি চলছে