পুতিন বেইজিংয়ে পৌঁছুতে চলছেন: কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সফর?
ট র ম প শ ব ঠক – মঙ্গলবার (১৯ মে) বেইজিং সফরে যাচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, যেখানে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। সফরের আনুষ্ঠানিক উদ্দেশ্য ছিল কৌশলগত সম্পর্কের চুক্তি গুড-নেইবারলিনেস অ্যান্ড ফ্রেন্ডলি কোঅপারেশন এর ২৫ বছর পূর্তি উদযাপনের জন্য। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ হালনাগড়া বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা।
ট্রাম্প-শি বৈঠকে তাইওয়ান ও ইরান যুদ্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ সমস্যায় বড় কোনো ক্রমবর্ধন না হওয়ায় রাশিয়া আশ্বস্ত হয়েছে যে চীন এখনো মস্কোর কৌশলগত সহযোগী হালে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর দেখাচ্ছে যে চীন বৈশ্বিক কূটনৈতিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থান অর্জন করছে।
“চীনেরই হাতে সব কার্ড,” বলেন লন্ডনের কিংস কলেজের গবেষক মারিনা মিরন। তিনি মনে করেন, এই সফরে নাটকীয় পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম, কিন্তু রাশিয়া-চীনের সম্পর্ক আরও গভীর হবে।
বিশেষ করে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, সামরিক প্রযুক্তি বিনিময় ও জ্বালানি খাতে যৌথ প্রকল্পের সম্পর্কে আলোচনা হবে। তার মতে, চীন রাশিয়ার জ্বালানি কম দামে পেতে আগ্রহী, যখন রাশিয়া চীনের ড্রোন উৎপাদন এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রযুক্তি আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক গড়ে তুলছে।
চ্যাথাম হাউজের বিশ্লেষক টিমোথি অ্যাশ বলেন, পুতিনের বৈঠক তার জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়া এখন চীনের ওপর আরও ভারী নির্ভরশীল হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ট্রাম্পের ক্ষেত্রে যেমন ইরান যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য চীনের সঙ্গে সমঝোতা আশা করেছিলেন, তেমন ভাবে পুতিনও অবশ্যই বেইজিংয়ে আসছেন।
ক্রাইসিস গ্রুপের রাশিয়া বিশ্লেষক ওলেগ ইগ্নাতভ বলেন, সম্পর্কটি শুধু ‘উপর-নিচ’ কাঠামোতে দেখা ঠিক হবে না। তার মতে, রাশিয়া ও চীন উভয়েই বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে কোনো একক শক্তির আধিপত্য থাকবে না। এই বৈঠকের প্রেক্ষাপটে চলমান ইউরোপ-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধ প্রভাব ফেলছে।
হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যা চীনের অর্থনৈতিক প্রতিস্পর্ধায় সরাসরি প্রভাব ফেলছে। মারিনা মিরন মনে করেন, চীন নিজেকে এক নিরপেক্ষ শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করছে, যে সবার সঙ্গে কথা বলতে পারে এবং কোনো পক্ষের অধীন নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এ সফর হয়তো বড় কোনো চুক্তি আনবে না, কিন্তু স্পষ্ট করে দিয়েছে যে বিভক্ত বিশ্ব রাজনীতিতে চীনকে উপেক্ষা করা এখন �