ঈদের একাল-সেকাল / চিরচেনা কোলাকুলি এখন চলে ভার্চুয়ালি
ঈদ র এক ল স ক ল – ছোট বেলায় ঈদ উপলক্ষে গ্রামে যাওয়া ছিল আমাদের নিয়মিত কাজ। হাট, জল সংগ্রহ, নানা ধরনের বিশাল উৎসব এবং ঘরে ঘরে মিলনমেলা মিলে তৈরি হতো এক আনন্দে ভরপূর পরিবেশ। চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার হারালা গ্রামে এই পরিবারগুলো যে সুবিশাল হাট ও পুকুর দ্বারা নিজেদের আবেগ প্রকাশ করত তা কেবল কোরবানির ঈদে নয়, সমস্ত উৎসবে প্রতিফলিত হতো।
এক রূপসী বাংলার মানসিক ধারণা
ঈদের আগে থেকেই গ্রামে আসা ছিল আমাদের অনুভূত কাজ। ঈদের দিন হাটে গরু কিনতে এবং পুকুরে জাল ফেলে মাছ ধরতে আমরা সাধারণত ছোট ছেলেদের সঙ্গে যাওয়ার সাহস করতাম। এটি ছিল পরিবারের সম্পূর্ণ মিলিয়ে একটি মহাউৎসব।
“ঈদের সকাল আমাদের পবিত্রতায় মোড়ানো ছিল। নামাজ শেষে কোরবানির ব্যস্ততা শুরু হতো। গরু জবাই, মাংস কাটা আর ভাগ করা সবকিছুতেই আনন্দের সঙ্গে হাত লাগত পরিবারের ছোট-বড় সবাই।”
অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, সেই সময় ঈদ ছিল একটি সামাজিক অবিচ্ছেদ্য পরিবেশ। কর্মস্থল বা শিক্ষার্থীদের জন্য শহরে থাকলেও ঈদের দিন বাড়ি ফিরতে হতো। কিন্তু বর্তমানে অর্থনৈতিক বাস্তবতা আর প্রযুক্তির সংস্পর্শ কারণে সম্পর্কের ধরন বদলে গেছে।
আগে ঈদের দিনে বাড়িতে একসঙ্গে থাকার অভিজ্ঞতা এখন কিছুটা হারিয়ে গেছে। টানটা কিন্তু আজও বাস্তবের মানুষের চেনা স্পর্শ এবং ভার্চুয়াল কোলাকুলির মধ্যে আবেগের দূরত্ব রয়েছে। প্রযুক্তি এখন ঈদের চিরচেনা কোলাকুলির গায়ে ভার্চুয়াল তকমা এঁটে দিয়েছে।
“ডাইনিং টেবিলে সবাই একসঙ্গে বসেছে ঠিকই, কিন্তু দেখা যাবে এক হাতে চামচ, অন্য হাতে ফোন চলছে। ভিডিও কলে ‘ঈদ মোবারক’ বলা হচ্ছে, স্ক্রিনেই চলছে ভার্চুয়াল কোলাকুলি।”
প্রাচীন গ্রামে ছোট ছেলেরা বাবা বা চাচা কিংবা মামাদের সঙ্গে হাটে যাওয়ার দায়িত্ব নেতেন। সেই পরিবার থেকে নিজেদের সুখ সম্পর্কে পূর্ণ বর্ণনা করত বড়দের দৃষ্টিতে। অবিলম্বে সেই সামাজিকতার ধরনের পরিবর্তন নিয়ে অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন মন্তব্য করেন, যার পরিচয় বৃহৎ পরিবার ও ছোট ছোট পরিবার মধ্যে সীমাবদ্ধতা।
প্রযুক্তি এখন সম্পর্কের স্পর্শ এবং আতিথেয়তার গায়ে ভার্চুয়াল মূল্য আছে বলে জানান জাহিদ হোসেন। কিন্তু পুরো দিনের গল্প এবং বাতাসের ভারী শব্দ এখন নিয়মিত অনুভব করা হয় না।
ঈদুল �