ঈদযাত্রায় সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ীতে মানুষের ঢল, বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ঈদয ত র য় স য় দ – ঈদুল আজহা উপলক্ষে হাজার হাজার মানুষ রাজধানী ছাড়ছেন। পবিত্র উৎসব আর মাত্র তিন দিন পরে শুরু হবে। সোমবার (২৫ মে) ভোর থেকে সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, ধোলাইপাড় এবং তাদের আশপাশের এলাকায় ব্যাপক লোকসংখ্যা দেখা গেছে। বাস টার্মিনাল ও মহাসড়কে যাত্রীদের দীর্ঘ অপেক্ষা দেখা যায়। পরিবার ও পরিজনের সঙ্গে উদযাপনের জন্য বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চল গমনকারী পরিবহনে যাত্রীচাপ বেশি হয়ে উঠেছে। কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও যাত্রীরা কাঙ্ক্ষিত বাসে উঠতে পারছেন না।
যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন যে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের বিরুদ্ধে বাড়তি ভাড়া আদায় হচ্ছে। সায়েদাবাদ এলাকায় বরিশালগামী যাত্রী রবিউল ইসলাম বলেন, “সাধারণ সময়ে ভাড়া ছিল ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, এখন তা ৭০০ থেকে এক হাজার আঠারোশত টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “বরিশালগামী সব বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।”
ঈদুল আজহার আগে দক্ষিণাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলে যাত্রীর চাপ তুলনামূলক বেশি হয়ে উঠেছে। কুমিল্লা, খুলনা, বরগুনা, পটুয়াখালী ও নোয়াখালীসহ বিভিন্ন রুটে অভিযোগ শোনা গেছে। তবে কয়েক জন পরিবহন শ্রমিক অস্বীকার করেছেন যে তারা বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন। তারা বলছেন, “সরকার নির্ধারিত ভাড়াই আদায় করছি।”
রাজধানী থেকে পটুয়াখালীর দশমিনা যাত্রী আব্দুর রহিম বলেন, “সকাল ৬টার দিকে আমি ধোলাইপাড় বাসস্ট্যান্ডে আসি। চাকরির চাপ বেশি হওয়ায় প্রথম গাড়িতে টিকিট পাইনি। দ্বিতীয় গাড়িতে টিকিট কেটেছি, কিন্তু সরকারের চার্ট অনুযায়ী ভাড়া ছিল ৯৩০ টাকা। আমরা আরও ৩০ কিলোমিটার ভেতরে যাচ্ছি, সেটি অনুযায়ী এক হাজার টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।”
সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বাড়তি ভাড়া আদায় করা যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তার কথা কেউ শুনছে না। মনিটরিং না থাকায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে বেশি ভাড়ায় যাতায়াত করছেন। নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পড়েছেন।
বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ টিম কিছু এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও ধোলাইপাড়ে মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। কিন্তু তদারকি আরও জোরদার না হলে ঈদযাত্রায় ভোগান্তি কমবে না।