আড়াই হাজার টাকা গাড়ি ভাড়ায় আনা চামড়া বিক্রি ৩ হাজারে
আড় ই হ জ র ট ক – পশুর চামড়া বিক্রি করতে না পেরে তাদের রাস্তায় ফেলে দেওয়ার ঘটনা গত ঈদে ঘটেছিল। এবার চট্টগ্রাম নগরীর আতুরার ডিপোতে কোরবানি চামড়া আসছে কম। বর্তমানে অনেকে চামড়া নিয়ে আসছেন না, যার কারণে ডিপোতে আসা চামড়াগুলো সামান্য পরিমাণে হয়ে পড়েছে। শ্রমিকরা আড়তে চামড়া সংরক্ষণের আশায় আসছেন, কিন্তু তাদের চাহিদা কম হয়ে গেছে।
আতুরার ডিপোতে শ্রমিকরা লবণ দিয়ে চামড়া সংরক্ষণ করছেন। ট্রাক ও পিকআপ গাড়ি করে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে চামড়া সংগ্রহ করে আড়তগুলোতে কাজ করছেন তারা। সাধারণত কেনা গরুর চামড়ার দাম লাখ, দেড় লাখ বা দুই লাখ টাকা হত। কিন্তু এবার চামড়ার মূল্য কম হয়ে পড়েছে।
আমরা মাদরাসার জন্য কিছু চামড়া সংগ্রহ করেছি। এলাকার কোরবানিদাতা অনেকে মাদরাসার এতিমখানার মিসকিন ফান্ডে চামড়াগুলো দান করেছেন। আমরা এখানে চামড়া আনতে আড়াই হাজার টাকা গাড়িভাড়া খরচ করেছি। কেউ ৮০ টাকা, কেউ ৯০ টাকায় কিনতে চাইছে। অনেক অপেক্ষার পর একজনের কাছে ২৯টি চামড়া তিন হাজার টাকায় বিক্রি করেছি।
মাওলানা মো. আলী বলেন, আগে চামড়া সংগ্রহের জন্য গাড়ি ভাড়া খরচ হত না, কিন্তু এবার পুরোনো প্রথমে যাবে আড়াই হাজার টাকা গাড়ি ভাড়ায় আসা চামড়া বিক্রি করা হচ্ছে তিন হাজার টাকায়। কিন্তু বিক্রি করা গরুর চামড়া কম দামে আসছে।
স্থানীয় যুবক মো. দিদার বলেন, প্রতিবছর কোরবানির দিন চামড়া সংরক্ষণ কাজ করি। এবার কেনাকারবার কম হয়ে গেছে। তাই অপেক্ষা করছি। এবার আতুরার ডিপোতে কাজে নিতে কেউ না। অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘ সময়।
পেকুয়া থেকে আসা চামড়ার জন্য এবারও প্রায় ১৫জন শ্রমিক আতুরার ডিপোতে কাজ করছেন। রাত পৌনে আটটার দিকে তারা কোনো কাজ পাননি। তাদের একজন হুমায়ুন কবির বলেন, গত চার বছর ধরে আমরা কোরবানির দিন এখানে কাজ করি। গত বছর তিন-চার হাজার টাকা পেতাম। এবার চামড়া কম এসেছে বলে দাবি করেন।
সভাপতি মো. মুসলিম উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকা থেকে প্রায় দেড় লাখের মতো চামড়া আসবে। আড়তে চামড়া কম এসেছে কি না তা এখন অনুমান করা যাচ্ছে না। আমরা সবাই চামড়া নিয়ে ব্যস্ত আছি। সরকার বলছেন দেশে সিন্ডিকেট নেই কিন্তু চামড়া বিক্রি করা হচ্ছে সিন্ডিকেটের কারসাজি।
খাগড়াছড়ির রামগড় এলাকা থেকে আতুরার ডিপোতে আসছে প্রায় ৬০০টি চামড়া। একজন শ্রমিক মো. করিম বলেন, আমরা লবণ দিয়ে চামড়া সংরক্ষণ করতে পারি না। তাই ডিপোতে আনছি। এখানে কেউ ১০০ টাকার বেশি দাম দিতে চাইছে না।
স্তূপ করে রাখা কাঁচা চামড়া