হাসপাতাল নিজেই আইসিইউতে, সংসদে সানসিলা জেবরিন
জরুরি স্বাস্থ্য সমস্যার মুখে পড়েছে শেরপুর সদর হাসপাতাল
হ সপ ত ল ন জ ই – ২০১৮ সাল থেকে শেরপুর সদর হাসপাতালে স্বাস্থ্য বিভাগের কোনও কর্মকর্তা বা নতুন কর্মী নিয়োগ হয়নি। গত আট বছরে ছয় দাবি সংসদ সদস্য ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা বলেন, একটি নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা হলেও সেগুলো বারবার আপেক্ষিক পরিবর্তন হয়েছে।
রোববার (৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে এ মন্তব্য করেন ডা. জেবরিন। তিনি বলেন, শেরপুরের ১৭ লাখ মানুষের একমাত্র ভরসা হাসপাতালের করুণ অবস্থা মহান জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে তুলে ধরা হয়েছে।
৭১ বিধিতে জরুরি বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশে তিনি এ মন্তব্য করেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে আহ্বান করে এ সংসদ সদস্য বলেন, হাসপাতালের বেড না পেয়ে রোগীরা মেঝে, বারান্দা বা করিডোরে দিনের পর দিন কাতর হয়ে থাকে। চরাঞ্চলের অধিকাংশ রাস্তা কাঁচা অবস্থায় রয়েছে। সেই দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে গর্ভবতী মা, মুমূর্ষ রোগী বা অসুস্থ ব্যক্তি জীবন বাঁচানোর শেষ আশায় হাসপাতালে আসে।
তিনি বলেন, যে হাসপাতাল মানুষের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার কথা, সেই হাসপাতাল আজ নিজেই আইসিইউতে চলে গেছে।
করোনাকালে হাসপাতালে প্রায় ১১ কোটি টাকায় আইসিইউ ও সিসিইউ ইউনিট নির্মাণ করা হয়। কিন্তু জনবলের অভাবে এগুলো কাজে লাগছে না। বর্তমানে তা মাদক সেবীদের আড্ডার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা যন্ত্রপাতিও চুরি হয়ে যাচ্ছে।
সেই হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে কিন্তু চালক নেই। নয় তলা ভবন রয়েছে, কিন্তু পর্যাপ্ত লিফট নেই। ময়লার ডাস্টবিনের দুর্গন্ধ সুস্থ মানুষকে অসুস্থ করছে।
সিনিয়র কনসালটেন্টদের মধ্যে ১০টি পদ শূন্য। প্রতিদিন ৭০০ রোগী হাসপাতালে প্রবেশ করে কিন্তু চিকিৎসক, নার্স ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সংখ্যা কম।