চট্টগ্রাম জলাবদ্ধতা সমস্যা স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ
চট টগ র ম র জল বদ – চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নতুন উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়নের মাধ্যমে নগরের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ প্রকল্প চলমান ৩৬টি খাল পুনঃখনন ও সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার পর খাল সংরক্ষণ এবং অপরিচিত খালগুলো চিহ্নিত করে প্রস্তাব করা হয়েছে।
পরিকল্পনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে আলোচনা
বুধবার (১০ জুন) চসিকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক উপস্থাপন করেন কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠান ‘আওয়ার পালস পয়েন্ট’-এর প্রতিনিধিরা। উপস্থাপনায় খাল সংরক্ষণ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা প্রস্তাব করা হয়েছে।
পরিকল্পনাটি তিন ধাপে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রথম ধাপে জরুরি ভিত্তিতে খাল থেকে পলি ও বর্জ্য অপসারণ এবং ডিজিটাল তথ্যভান্ডার প্রস্তুত করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে খালের কাঠামোগত উন্নয়ন, ইউ-ওয়াল নির্মাণ ও অভিযোগ ব্যবস্থাপনা চালু করা হবে। তৃতীয় ধাপে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে জলাবদ্ধতা ব্যবস্থাপনা, বন্যা পূর্বাভাস এবং ডিজিটাল মনিটরিং প্রকল্প চালুর প্রস্তাব রয়েছে।
পরিকল্পনার বিষয়ে আলোচনা করা হয় চসিক, সিডিএ এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সমন্বয়ে। খালপাড়ে হাঁটার পথ, সবুজায়ন ও বিনোদনের স্থান প্রস্তুত করে তোলার উদ্দেশ্যে প্রকল্পের আওতায় আনা হবে প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ পথগুলো।
স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্য
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত নগরায়ণ, খাল-নালা দখল ও অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সামান্য বৃষ্টিতে নগরবাসী দুর্ভোগে পড়তে হয়। এ সমস্যার সমাধানে নগরে আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, শুধু খাল খনন করলে সমস্যার সমাধান হবে না। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, আধুনিক মনিটরিং ব্যবস্থা এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। উদ্যোগটি এতে নগরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবে এবং নাগরিকদের জন্য নতুন উন্মুক্ত স্থান সৃষ্টি হবে।
প্রকল্পে সামগ্রিক ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের লক্ষ্যে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে জলাবদ্ধতাপ্রবণ বহদ্দারহাট, চকবাজার, বাদুরতলা ও আশপাশের এলাকাকে।