মদিনার যাত্রা ও হজের সম্পর্ক
হজ র সফর মদ ন য় গ – হজ পালন করতে গিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন কোণ থেকে আসা পূজিত মুসলমানদের জন্য মদিনায় গমন একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন যে যে ব্যক্তি তাঁর মৃত্যুর পর হজ করে তাঁর কবর জিয়ারত করে আসে, তিনি যেন তাঁর জীবিত অবস্থায় সাক্ষাৎ করেছেন। (
সুনানে বায়হাকি: ৩৮৫৫
) আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে শুনা গেছে যে কবর জিয়ারত করা তাঁর জন্য প্রশংসনীয় আমল। (
সুনানে দারাকুতনি: ১৯৪
) সুতরাং যারা হজ পালন করতে যান তাদের জন্য মদিনায় গমন এবং নবীজির (সা.) কবরে সালাম দেওয়া অপরিহার্য।
মসজিদে নববির ফজিলত
মসজিদে নববি ইসলামের বিশেষ ফজিলত বিশিষ্ট স্থান। এখানে নামাজ আদায় করা অন্যান্য মসজিদে নামাজ পড়ার চেয়ে সওয়াব অনেক বেশি। নবীজি (সা.) বলেছেন, আমার এ মসজিদে নামাজ আদায় করা মসজিদে হারামের চেয়ে এক হাজার নামাজ আদায় করার সওয়াব বেশি। (
সুনানে ইবনে মাজা ১৪০৬, মুসনাদে আহমাদ: ১৪৬৯৪
) এটি হাদিসে রওজাতুম মিন রিয়াজিল জান্নাহ বলে পরিচিত, যা জান্নাতের উদ্যান মনে হয়। (
সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম
) মদিনায় অবস্থানের সময় ফজর ও আসরের পর জান্নাতুল বাকি জনসাধারণের জন্য খোলা থাকে।
মসজিদে কুবা ও তার বিশেষত্ব
মসজিদে কুবা নবীজি (সা.) দ্বারা প্রতিষ্ঠিত প্রথম মসজিদ। কোরআনে এ মসজিদের প্রশংসা রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, তুমি সেখানে নামাজ আদায় করতে দাঁড়াবে যেন তার সাথে তুমি তাওবা করেছো। সেখানে উত্তম পবিত্রতা অর্জন করে বেশি লোক রয়েছেন। (
সুরা তওবা: ১০৮
) নবীজি (সা.) শনিবার বাহনে বা পায়ে মসজিদে কুবায় নামাজ আদায় করতেন। (
সহিহ বুখারি: ১১৯৩
) তিনি বলেছেন, কেউ নিজের ঘর থেকে পবিত্রতা করে মসজিদে কুবায় নামাজ আদায় করলে এটি একটি ওমরাহ সম্পন্ন করে। (
সুনানে ইবনে মাজা: ১৪১২
)
ওহুদ যুদ্ধের শহিদদের কবর
ওহুদ প্রান্তরে সাহাবীদের শহিদ কবর রয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন হামজা (রা.), হানজালা (রা.), আবু সালামাসহ (রা.) বহু মর্যাদাবান ব্যক্তি। আল্লাহ তাদের ভালবাসেন এবং তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন। নবীজি (সা.) সাধারণত এ শহিদদের কবর জিয়ারত করতেন। তিনি একবার সেখানে যাওয়ার পর বলেছিলেন, হে আল্লাহ, আপনি আমার সন্তান ও নবী আমার সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে এরা শহিদ। কেয়ামত পর্যন্ত যারা তাদের কবর জিয়ারত করে সালাম দেবে শহিদগণ তাদের সালামের জবাব দেবেন। (
মুসতাদরাকে হাকেম: ৪৩২০
)