সোনম ওয়াংচুকের ২৬ দিনের অনশন সমাপ্তি
Bangladailypost.com – ২৬ দ ন পর অনশন ভ ঙল – সমাজকর্মী ও প্রকৌশলী সোনম ওয়াংচুক ভারতে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের প্রতি সমর্থন জানাতে অনির্দিষ্টকালীন অনশন শুরু করেছিলেন। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) এক্সে প্রকাশিত একটি পোস্টে ৫৯ বছর বয়সী ওয়াংচুক ঘোষণা দেন যে তিনি এই অনশন ভাঙছেন। বিভিন্ন শর্তে দীর্ঘ আলোচনার পর এবং দেশে সম্ভাব্য সহিংসতা এড়ানোর স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
অনশন ভাঙার পেছনের কারণ
বিবিসির খবর অনুযায়ী, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—এই আশ্বাস পাওয়ার পরই ওয়াংচুক অনশন প্রত্যাহার করেন। এ সময়ে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালে গিয়ে তার সাথে সাক্ষাৎ করেন।
গত শনিবার (১৮ জুলাই) দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভস্থল থেকে পুলিশ তাকে জোর করে তুলে হাসপাতালে ভর্তি করে। অনশন চলাকালীন সময়ে ওয়াংচুক জানান যে তার ওজন প্রায় ১১ কেজি কমে গেছে, কিন্তু তিনি সুস্থভাবেই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
সিজেপি ও আন্দোলনের ইতিহাস
ওয়াংচুক গত ২৮ জুন থেকে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) নামক একটি যুব আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানাতে অনশন শুরু করেছিলেন। শিক্ষা সংস্কারের পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে এই সংগঠনটি আন্দোলন করছে।
২৬ দিনের অনশন শেষে সোনম স্যার অনশন ভেঙেছেন—এতে আমরা স্বস্তি ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে এক্সে এই কথা লেখেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত দিল্লির যন্তর-মন্তরে সিজেপির শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি চলবে।
আন্দোলনের বর্তমান পরিস্থিতি
দিল্লিতে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। গত সোমবার পার্লামেন্ট অভিমুখে মিছিল ঘিরে পুলিশের কঠোর অভিযানে বহু আন্দোলনকারী ও পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার পরও আন্দোলন থেমে নেই। সাম্প্রতিক সময়ে সিজেপি ভারতের অন্যতম দৃশ্যমান যুব আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।
২০১৪ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে এটিকে অন্যতম বড় জনঅসন্তোষের প্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রশ্নফাঁস ও বিভিন্ন নিয়োগ ও ভর্তি পরীক্ষার অনিয়মের প্রতিবাদে গত মে মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভিত্তিক ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন হিসেবে সিজেপির যাত্রা শুরু হয়। পরে এটি দেশজুড়ে একটি বৃহৎ যুব আন্দোলনে রূপ নেয়।
আন্দোলনকারীরা নিজেদের ‘ককরোচ’ বা তেলাপোকা বলে পরিচয় দেন। তারা এক মাসের বেশি সময় ধরে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন। আন্দোলনকারীদের মধ্যেও কয়েকজন অনশনে অংশ নিয়েছেন। তাদের প্রধান দাবি, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনার নৈতিক দায় স্বীকার করে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। তবে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে গত মে মাসের শুরুতে ওই ভর্তি পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছিল।
