প্রক্সি পরীক্ষায় চাকরি: চারজনের এক দিনের রিমান্ড
Bangladailypost.com – জ ল য় ত র ম ধ – জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক পদে নিয়োগের সময় মৌখিক পরীক্ষায় প্রক্সি পরীক্ষার অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ এই মামলার শুনানি শেষে আদেশ প্রদান করেন।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে তিনজনকে একদিনের রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। অন্যদিকে, অসুস্থ অবস্থায় থাকা চতুর্থ আসামিকে রিমান্ডে না নিয়ে কারাফটকে (জেলগেট) জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
রিমান্ডে পাঠানো আসামিদের তালিকা
রিমান্ডে পাঠানো তিন আসামির নাম হলো—সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার মো. আলী হোসেন, কুষ্টিয়া জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার মো. রাসেল রানা লিটন এবং গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মো. মাসুদ ফকির।
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার মো. আবদুল আলিম অসুস্থ থাকায় তাকে রিমান্ডে না পাঠিয়ে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন আদালত।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার এসআই আবদুল গাফফার চার আসামির সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। গত ২১ জুলাই করা ওই আবেদনের শুনানির জন্য আদালত বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেছিলেন।
আসামিদের আইনজীবীর বক্তব্য
আসামিদের আইনজীবী আবদুল লতিফ তালুকদার রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করেন। তিনি আদালতে দাবি করেন, তার মক্কেলরা নিজ যোগ্যতায় প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার অংশ নিয়ে চাকরির জন্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। যোগদানের দিন তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার বিস্তারিত তথ্য
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ৫ মে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় অফিস সহায়ক (গ্রেড-২০) পদে ২০ জন নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। ১৯ জুন লিখিত এবং ২৪, ২৫ ও ২৬ জুন মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরে ৬ জুলাই চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয় এবং ১৯ জুলাই সচিবালয়ে যোগদানের দিন চারজনের বিরুদ্ধে প্রক্সির অভিযোগ সামনে আসে।
সচিবালয়ে যোগদান করতে গেলে চারজনের আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়। পরে মৌখিক পরীক্ষার সময় তোলা ছবির সঙ্গে তাদের চেহারা মিলিয়ে অসংগতি ধরা পড়ে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা অর্থের বিনিময়ে অন্যদের দিয়ে মৌখিক পরীক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে চাকরি পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এইচ এম আরিফুর রহমান বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় প্রতারণার অভিযোগে মামলা করেন।
আদালত সূত্র জানায়, দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে চার আসামিকে হাতকড়া পরিধান করে নিরাপত্তা আদালতে হাজির করা হয়। অন্য মামলার শুনানি চলার বিকেল ৩টার পর এ মামলার শুনানি শুরু হয়। উভয় পক্ষের বক্তব্য শেষে বিচারক আদেশ সংরক্ষণ করেন। পরে বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে আদালত তিনজনের এক দিনের রিমান্ড ও একজনকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়ে আদেশ দেন।
শুনানিতে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, অভিযুক্তরা অন্য ব্যক্তিকে দিয়ে মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ পেয়েছেন। এর পেছনে একটি সংঘবদ্ধ নিয়োগ-জালিয়াতি চক্র রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
জাগো নিউজকে রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম।
