নিজ দলেই তোপের মুখে দেশে ফেরা নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী
ন জ দল ই ত প র - পাঁচবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) প্রায় পাঁচ মাস বিদেশে থাকার পর নেপালে ফিরেছেন। নেপালি কংগ্রেসের দুই
Table of Contents
দলীয় সংকটের মধ্যে নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরা
Bangladailypost.com – ন জ দল ই ত প র – পাঁচবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) প্রায় পাঁচ মাস বিদেশে থাকার পর নেপালে ফিরেছেন। নেপালি কংগ্রেসের দুই মেয়াদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা দেউবা বিমানবন্দর থেকে সরাসরি কাঠমান্ডুর চুন্ডেভিতে তার সমর্থক গোষ্ঠীর যোগাযোগ কার্যালয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই দলীয় নেতা-কর্মীরা জড়ো হয়েছিলেন। তাদের অনুরোধে দেউবা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন।
দলীয় নেতৃত্ব নিয়ে নতুন মোড়
নেপালি কংগ্রেসের নেতৃত্ব নিয়ে চলমান বিরোধ নতুন মোড় নিয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দলটির সাবেক সভাপতি শের বাহাদুর দেউবার ঘনিষ্ঠ নেতারা তাকে আবার দলের সভাপতি হিসেবে গ্রহণ করে তার নেতৃত্বেই ১৫তম সাধারণ সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে দলটির একাংশ তাকে আর সভাপতি হিসেবে চায় না। নেপালের সুপ্রিম কোর্ট গত ১৭ এপ্রিলের রাতে পুনর্বিবেচনার অনুমতি দেওয়ার পর দেউবা-ঘনিষ্ঠ শিবির এই প্রস্তাব সামনে এনেছে। ওই রাতে গগন থাপার নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস কমিটিকে দলের বৈধ নেতৃত্ব হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল।
এখন দেউবা-সমর্থক নেতারা বলছেন, সামনে দুটি পথ খোলা রয়েছে—সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায়ের জন্য অপেক্ষা করা অথবা দেউবার নেতৃত্বে সাধারণ সম্মেলন আয়োজন করা। দেউবার ঘনিষ্ঠ নেতা প্রকাশ শরণ মহাত বলেন, আমরা হচ্ছি আদালতের চূড়ান্ত রায়ের জন্য অপেক্ষা করতে পারি, অথবা ১৪তম সাধারণ সম্মেলনে শের বাহাদুর দেউবার নেতৃত্বে নির্বাচিত কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটিকে গ্রহণ করে সাধারণ সম্মেলনের দিকে এগোতে পারি। তিনি বলেন, স্বাভাবিকভাবেই ১৫তম সাধারণ সম্মেলন দেউবার নেতৃত্বেই হওয়া উচিত।
বিরোধী শিবিরের অবস্থান
দেউবাকে ফিরিয়ে আনার প্রস্তাবে আপত্তি থাপা শিবিরের দলের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ পৌডেল দেউবাকে আবার সভাপতি করার প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, বিশেষ সাধারণ সম্মেলনের বৈধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যে নেতৃত্বকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাকে আবার সভাপতি হিসেবে গ্রহণ করে সাধারণ সম্মেলনে যাওয়া আইনগত, প্রক্রিয়ারাগত ও রাজনৈতিক—কোনো দিক থেকেই যুক্তিসঙ্গত নয়। পৌডেল বলেন, দেউবা এরই মধ্যে দুই মেয়াদে দলের সভাপতি ছিলেন। তাই তার উচিত দলীয় গোষ্ঠীগত প্রতিযোগিতার ঊর্ধ্বে থেকে দলের বৃহত্তর ঐক্যের জন্য অভিভাবকের ভূমিকা পালন করা।
বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকের শুরুতে দেউবার দেশে ফেরাকে স্বাগত জানান গগন থাপা। তিনি বলেন, সাবেক সভাপতি দেউবা চিকিৎসার জন্য বিদেশে গিয়েছিলেন। সুস্থ হয়ে দেশে ফেরায় তিনি তাকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন।
সম্মেলন ও আদালতের সিদ্ধান্ত
নেপালি কংগ্রেসের বর্তমান নেতৃত্ব সংকটের সূত্রপাত জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বিশেষ সাধারণ সম্মেলনকে ঘিরে। সাধারণ সম্মেলনের ৪০ শতাংশের বেশি প্রতিনিধি এই সম্মেলনের দাবি জানিয়েছিলেন। সেখানে গগন থাপাকে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। নির্বাচন কমিশন থাপার নেতৃত্বাধীন কমিটিকে স্বীকৃতি দেওয়ার পর দেউবা শিবির সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যায়। গত ১৭ এপ্রিল আদালতের একটি বেঞ্চ থাপার নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকে নেপালি কংগ্রেসের বৈধ নেতৃত্ব হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এর ফলে প্রায় তিন মাস ধরে চলা নেতৃত্ব সংকটের একটি পর্যায়ের অবসান ঘটে এবং নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়।
এরপর দেউবা শিবির রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করে। তাদের দাবি ছিল, আদালতের আগের রায়ে আইনগত ত্রুটি রয়েছে। প্রাথমিক পর্যালোচনার পর ২২ জুলাই সুপ্রিম কোর্ট আবেদনটি নথিভুক্ত করে। পরে আদালত পুনর্বিবেচনার অনুমতি দেয়।
দেউবার বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ পথ
চুন্ডেভিতে যাওয়ার আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে দেউবা কংগ্রেসের ভেতরের মতবিরোধ ও অসন্তোষের অবসান ঘটানোর আহ্বান জানান। দেশের প্রধান গণতান্ত্রিক দলটির অভ্যন্তরীণ বিরোধ জাতীয় ঐক্যকে দুর্বল করতে পারে বলে সতর্ক করে তিনি নেতা-কর্মী, সমর্থক, শুভাকাঙ্ক্ষী ও ভোটারদের দলের ত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাসকে সম্মান করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। দেউবা আরও বলেন, কংগ্রেসের রাজনীতিতে তরুণ নেতাদের সামনে এগিয়ে আসা উচিত। তবে অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের অযোগ্য বা মূল্যহীন হিসেবে উপস্থাপন করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় কোনো নেতাকে দলীয় দায়িত্বের ওপর প্রাধান্য দেওয়ার বিরুদ্ধেও সতর্ক করেন তিনি।
আমরা হচ্ছি আদালতের চূড়ান্ত রায়ের জন্য অপেক্ষা করতে পারি, অথবা ১৪তম সাধারণ সম্মেলনে শের বাহাদুর দেউবার নেতৃত্বে নির্বাচিত কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটিকে গ্রহণ করে সাধারণ সম্মেলনের দিকে এগোতে পারি।
বিশেষ সাধারণ সম্মেলনের বৈধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যে নেতৃত্বকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাকে আবার সভাপতি হিসেবে গ্রহণ করে সাধারণ সম্মেলনে যাওয়া আইনগত, প্রক্রিয়ারাগত ও রাজনৈতিক—কোনো দিক থেকেই যুক্তিসঙ্গত নয়।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ন জ দল ই ত প র?
ন জ দল ই ত প র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ন জ দল ই ত প র matter?
ন জ দল ই ত প র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.