এডিস মশার লার্ভার প্রধান উৎস হলো ওয়াসার ‘পানির মিটারের গর্ত’
এড স মশ র ল র ভ – এডিস মশার লার্ভার উৎস সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার। তিনি বলেন, বর্তমানে এডিস মশার প্রজনন ঘটছে ওয়াসার পানির মিটারের গর্তে সবচেয়ে বেশি। তিনি আরও বলেন যে প্রতিটি শহরে মশার প্রজনন স্থান ভিন্ন ভিন্ন হওয়ায় একই পদ্ধতি সম্পূর্ণ কার্যকর হয় না। এটি দেখায় যে স্থানীয় পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে নীতি গঠন করা আবশ্যক।
প্রজনন উৎসের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে তথ্য
ঢাকার উত্তর সিটি করপোরেশনে পরিচালিত অনুসন্ধান প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে প্রায় ৩৭ শতাংশ এডিস লার্ভা ওয়াসার পানির মিটারের গর্তে পাওয়া যায়। অন্যান্য প্রধান উৎসগুলো হলো বালতিতে (২২ শতাংশ), বেজমেন্টের পার্কিং এলাকার জমে থাকা পানিতে (১২ শতাংশ) এবং ড্রামে (৮ শতাংশ)। তাই প্রায় ৭০ শতাংশ লার্ভা কয়েকটি নির্দিষ্ট স্থানে সৃষ্টি হচ্ছে। এটি দেখায় যে স্থানীয় পরিবেশ বিশ্লেষণ ছাড়া কোনো পরিকল্পনা কার্যকর হবে না।
স্থানীয় পরিবেশের প্রভাব
এডিস মশার লার্ভা সৃষ্টির প্রধান কারণ হলো ওয়াসার পানির মিটারের গর্ত। এসব গর্ত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর পানি জমে থাকে এবং বিশেষ করে গ্রীষ্মের মতো গরম ও আর্দ্র সময়ে এডিস মশার প্রজনন বৃদ্ধি পায়। অধ্যাপক বাশার জানান, এমন গর্ত সম্পূর্ণ খালি থাকে না সব সময়। অনেক স্থানে এগুলো দ্বারা পানির পরিমাণ পরিশোধন হয় না এবং তাই এগুলো মশার স্থানীয় নীতি প্রণয়নের প্রধান উৎস হয়ে উঠেছে।
“অর্থাৎ যদি কোনো স্থান লক্ষ্য করা হয়, তাহলে অল্প খরচে কার্যকর এডিস নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। ওয়াসার গর্ত পরিষ্কার করে দিলে তার মাধ্যমে লার্ভা কমানো সম্ভব,” তিনি আরও বলেন।
গত শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর বাড্ডায় আয়োজিত ‘ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও আমাদের করণীয়’ গোলটেবিল আলোচনায় ওয়াসার গর্তের গুরুত্ব আলোচনা করা হয়। আলোচনার আগে জাগো নিউজের সম্পাদক কে. এম. জিয়াউল হক আমন্ত্রিত অতিথিদের স্বাগত জানান এবং প্রতিবেদনগুলো বিশ্লেষণ করেন। এ আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বিভিন্ন প্রতিবেদনকারী এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
আলোচনায় অংশ গ্রহণ করেন অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. ফোয়ারা তাসমীম, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন, টিবি হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আয়েশা আক্তার, এপিডেমিওলজিস্ট ডা. মো. তারিকুল ইসলাম লিমন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উপ-প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নিশাত পারভিন এবং বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি প্রতীক ইজাজ। তারা সম্মিলিতভাবে স্থানীয় স্বাস্থ্য পরিস্থিতি এবং বিশেষ করে ওয়াসার গর্তের বিশ্লেষণ করেন।
আলোচনার সময় বিশেষ করে ওয়াসার গর্ত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান যে এসব গর্ত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর পানি জমে থাকে এবং তাই লার্ভা উৎপন্ন হয়