Entertainment

মৌসুমীর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা কথা বললেন ওমর সানী

og_1789211699_6aa53433bb74e

তিন দশক পেরিয়েও মৌসুমীর প্রতি ভালোবাসা অটুট ওমর সানীর

Bangladailypost.com – ম স ম র সঙ গ সম – ঢাকাই চলচ্চিত্রের পরিচিত তারকা দম্পতি ওমর সানী ও মৌসুমীর দাম্পত্য জীবনের বয়স এখন ৩১ বছরের বেশি। সময়ের সঙ্গে পরিবার বড় হয়েছে, বদলেছে দৈনন্দিন জীবনের ছন্দ, সন্তানরাও হয়ে উঠেছেন তাদের ভাবনার বড় অংশ। তবু স্ত্রী মৌসুমীকে ঘিরে নিজের মুগ্ধতা, নির্ভরতা ও ভালোবাসার জায়গাটি আগের মতোই রয়েছে বলে জানালেন ওমর সানী।

দীর্ঘ সংসারজীবনের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরে অভিনেতা বলেন, মৌসুমীর যত্নশীল স্বভাব তাঁকে এখনো টানে। একই সঙ্গে স্ত্রীর দৃঢ় মনোভাবও তাঁর কাছে বিশেষ আকর্ষণের।

“মৌসুমীর কেয়ারিং এবং ওর জিদটাও আমাকে ভীষণ টানে। ও একটা কথা অনেক জমাট করে রাখতে পারে, আমি পারি না। আমার একটু ধৈর্য কম, ওর একটু বেশি আছে।”

দাম্পত্যে দুজন মানুষের স্বভাবের পার্থক্য অনেক সময় সম্পর্ককে পরিপূরক করে তোলে। ওমর সানীর বক্তব্যেও তেমন একটি চিত্র উঠে আসে। নিজের অধৈর্যের কথা স্বীকার করে তিনি মৌসুমীর ধৈর্য ও পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষমতার কথা বলেছেন।

সন্তানদের ঘিরেই মৌসুমীর সবচেয়ে বেশি ভাবনা

ওমর সানী ও মৌসুমীর সংসারে ছেলে ফারদীন ও মেয়ে ফাইজা গুরুত্বপূর্ণ জায়গাজুড়ে রয়েছেন। অভিনেতার ভাষ্য, সময়ের সঙ্গে মৌসুমীর অগ্রাধিকারের তালিকাও বদলেছে। আগে যেখানে বাবা-মা এবং স্বামীকে নিয়ে তাঁর ভাবনা বেশি ছিল, এখন সন্তানদের নিয়ে তাঁর উদ্বেগ ও মনোযোগ সবচেয়ে বেশি।

“একটা সময় ছিল বাবা-মা, আমি আর এখন আমাদের দুই সন্তান ফারদীন, ফাইজা। সন্তানদের নিয়ে ওর যত চিন্তা। এরপর বাকি থাকলে আমি।”

এই কথার মধ্যে অভিমান নয়, বরং দীর্ঘ পারিবারিক জীবনের সহজ বাস্তবতা ও রসিকতাই ধরা পড়ে। পরিবারের ছোট সদস্যদের পছন্দ, প্রয়োজন এবং প্রতিদিনের নানা বিষয়ই যে একজন মায়ের ভাবনার কেন্দ্রে থাকে, সেটিই তাঁর কথায় স্পষ্ট হয়েছে।

খাবারের টেবিলের সাধারণ একটি মুহূর্তের কথাও স্মরণ করেছেন ওমর সানী। পরিবারের সবাইকে ঘিরে এমন ছোট ছোট অভ্যাসই তাদের সম্পর্কের আন্তরিকতাকে আলাদা করে তোলে বলে বোঝা যায়।

“দেখা গেল, আমি খেতে বসলাম, এই মাংসটা ফারদীন খাবে, এটা ফাইজা। ঠিক আছে। আমি অনেক সময় হাড্ডি চাবাই-চুবাই খাই। ভালোই লাগে এসব।”

সমালোচনা, ভুল এবং সম্পর্কের বোঝাপড়া

দীর্ঘ সময় ধরে আলোচিত তারকা দম্পতি হওয়ায় ওমর সানী ও মৌসুমীর ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। কখনো বিচ্ছেদের গুঞ্জন, কখনো সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে লেখালেখিও হয়েছে। এসব আলোচনাকে কেন্দ্র করে মানুষের ভুল করার স্বাভাবিকতাকেই সামনে এনেছেন ওমর সানী।

“আমি তো মানুষ, আমার ভুল হতেই পারে। মৌসুমীও তাই। ওরও ভুল হতে পারে। এ রকম আমরা সবাই মানুষ। সমস্যা হয় যখন এসব নিয়ে অতিমাত্রায় লেখালেখি হয়।”

স্ত্রীর একটি মন্তব্যও এ প্রসঙ্গে তুলে ধরেন তিনি। সেই মন্তব্যে বাইরের আলোচনা নিয়ে মৌসুমীর বাস্তববাদী ও খানিকটা তীক্ষ্ণ প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত রয়েছে।

“ওদের হয়তোবা এসব বলে কিংবা লিখে সংসার চলে। হয়তোবা দুইটা পয়সার কারণে চাল-ডাল কিনে খায়।”

তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আগ্রহ নতুন নয়। তবে দীর্ঘ সম্পর্কের ভেতরের বাস্তবতা অনেক বেশি জটিল ও ব্যক্তিগত। ওমর সানীর কথায়, বাইরের আলোচনা থাকলেও তাদের সম্পর্কের ভিত্তি নষ্ট হয়নি; বিশ্বাস, ছাড় দেওয়ার মানসিকতা এবং বোঝাপড়াই তাদের পাশে রেখেছে।

“স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কটা হচ্ছে একজন আরেকজনকে বিশ্বাস করা, স্যাক্রিফাইজ করা। সেটা আমাদের মধ্যে আছে।”

বকাঝকার মধ্যেও থাকে যত্ন

মৌসুমীর শাসন, প্রশ্ন এবং পরামর্শের মধ্যেও ওমর সানী ভালোবাসার প্রকাশ দেখতে পান। তাঁর বর্ণনায়, স্ত্রী কখনো কোনো সিদ্ধান্ত বা ভুল নিয়ে তাঁকে বকাঝকা করেন, আবার প্রয়োজন হলে কীভাবে সাহায্য করা যায়, সেটিও জানতে চান। এই দ্বৈততা—কঠোরতা ও যত্ন—তাঁর কাছে স্বস্তির জায়গা তৈরি করেছে।

“মৌসুমী মাঝেমধ্যে বোকামির জন্য আমাকে বকাটকা দেয়। বলে, তুমি তো এটা লস করছ, এটা করছ, এটাও করছ-দিনশেষে আমাদের কি কোনো জায়গা নেই? এরপর আবার নিজেই বলবে-কী লাগবে, কী রকম লাগবে, কীভাবে লাগবে, কী করতে চাও। সবকিছু মিলিয়ে মৌসুমী ভেরি কমফরট্যাবল।”

স্ত্রীর প্রতি নিজের আবেগ প্রকাশ করতেও কোনো আড়াল রাখেননি ওমর সানী। সন্তানদের পরিচয় টেনেই তিনি মৌসুমীর প্রতি ভালোবাসার কথা বলেছেন।

“এই বয়সেও এসে আমি বলব, ফারদীন-ফাইজার আম্মু-তোমাকে ভালোবাসি।”

যেভাবে শুরু হয়েছিল তাদের গল্প

ওমর সানী ও মৌসুমীর প্রথম দেখা হয়েছিল ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ চলচ্চিত্রের মহরত অনুষ্ঠানে। এরপর পরিচালক শেখ নজরুল ইসলাম একটি ছবির প্রস্তাব নিয়ে ওমর সানীকে সঙ্গে করে মৌসুমীদের মোহাম্মদপুরের বাসায় যান। সেখানেই প্রথমবার কথা হয় দুজনের। অন্য ছবির কাজে ব্যস্ত থাকায় তখন সেই প্রস্তাবে সম্মতি দিতে পারেননি মৌসুমী, আর মন খারাপ নিয়েই ফিরেছিলেন ওমর সানী।

১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ মুক্তির পর কয়েকজন প্রযোজকের উদ্যোগে ‘দোলা’ ছবিতে প্রথমবার একসঙ্গে অভিনয়ের সুযোগ পান তাঁরা। সিলেটে সেই ছবির শুটিংয়ের সময় তাদের মধ্যে মনোমালিন্যও হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সেই দূরত্বই বদলে যায় ভালো লাগায়। মৌসুমীর ব্যক্তিত্ব, আচরণ এবং তাঁর পরিবারের আন্তরিকতা ওমর সানীকে মুগ্ধ করেছিল।

১৯৯৫ সালের ৪ মার্চ দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠজন এবং চলচ্চিত্রের দুই কাছের পরিচালকের উপস্থিতিতে গোপনে বিয়ে করেন তারা। বিয়ের দেড় বছর পর, ২ আগস্ট, আয়োজন করা হয় বিবাহোত্তর সংবর্ধনার। তারপর থেকে তিন দশকের বেশি সময় ধরে একসঙ্গেই এগিয়ে চলেছেন এই দুই শিল্পী।

অভিমান, পারিবারিক ব্যস্ততা, সমালোচনা বা গুঞ্জন—সবকিছুর মধ্যেও তাদের গল্পের মূল সুরটি একই রয়েছে। ওমর সানীর চোখে সেই সম্পর্কের শক্তি হলো পারস্পরিক বিশ্বাস, ত্যাগ, দায়িত্ববোধ এবং ভালোবাসা।

Frequently Asked Questions

What is ম স ম র সঙ গ সম?

ম স ম র সঙ গ সম is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ম স ম র সঙ গ সম matter?

ম স ম র সঙ গ সম matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *