দেশের জিআই পণ্যের আশা বৃদ্ধি করল সার্টিফিকেট
দ শ র ১৪ ফল জ আই – বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ৬৪টি পণ্য ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই সনদ অর্জন করেছে। এসব পণ্যগুলো বিশেষ জাতীয় কৃষি অঞ্চলের পরিবেশ, মাটি ও উৎপাদন ঐতিহ্যের ফলে গড়ে ওঠে। এর মধ্যে ফল শ্রেণীতে সবচেয়ে বেশি সংখ্যা অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করেছে।
সার্টিফিকেটের ফলে উন্নয়নে নতুন পরিবর্তন
স্বীকৃতি দেওয়ার পর ফলগুলো গুণগত মান বজায় রাখার সাথে সাথে উৎস ভিত্তিক ব্র্যান্ডিংয়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এছাড়া কৃষকদের ন্যায্য মূল্য পেতে সাহায্য করছে। সার্টিফিকেট প্রদানের মাধ্যমে শুধু বাজার স্বাদ বাড়ছে না, প্রিমিয়াম মূল্যের ব্যবসায়ী প্রক্রিয়া তৈরি হচ্ছে এবং সমস্ত মৌসুমে উন্নত মানের ফলের বিক্রি গুরুত্বপূর্ণ বাড়ছে।
জিআই স্বীকৃতি বাংলাদেশের ফল উৎপাদন অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে ফজলি, খিরসাপাত, হিমসাগর, ল্যাংড়া, আশ্বিনা ও হাড়িভাঙাসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী আমের জাত এই সনদ পেয়েছে। ফলে দেশের আমকেন্দ্রিক অঞ্চলে একটি শক্তিশালী জিআই আম বেল্ট গড়ে উঠছে।
যে কোনো একটি জাতের ফল অন্য অঞ্চলে উৎপাদিত হলেও, জিআই প্রদান করা অঞ্চলের ফলের স্বাদ, ঘ্রাণ, আকার ও সংরক্ষণ ক্ষমতা সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়।
স্পেসিফিক পণ্যগুলোর জিআই সনদ প্রাপ্তি
এখন দেশের জিআই তালিকায় রয়েছে রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জের ‘ফজলি আম’, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ‘খিরসাপাত আম’, মেহেরপুরের ‘হিমসাগর আম’, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ‘আশ্বিনা আম’, নওগাঁর ‘নাক ফজলি আম’ এবং রংপুরের ‘হাড়িভাঙা আম’। অন্যদিকে মাগুরার ‘হাজরাপুরি লিচু’, দিনাজপুরের ‘বেদানা লিচু’ এবং গাজীপুরের ‘কাঁঠাল’ জিআই সনদ পেয়েছে।
পাশাপাশি মেহেরপুরের ‘মেহের সাগর কলা’, নরসিংদীর ‘অমৃত সাগর কলা’ ও ‘লটকন’, টাঙ্গাইলের ‘মধুপুরের আনারস’ এবং বরিশালের ‘আমড়া’ বর্তমানে বাংলাদেশি জিআই পণ্যের অন্তর্ভুক্ত।
বিশেষ অর্থনীতিতে লিচু, লটকন ও কাঁঠালের মতো পণ্যগুলো জিআই সনদ পেয়েছে। ফলে এগুলোর জন্য বিশেষ বাজার, প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প এবং স্থানীয় ঐতিহ্য ও উৎস কেন্দ্রিক ‘কৃষি-পর্যটন’ বিকাশে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।