বিদ্যালয়ের রড ও দরজা চুরির অভিযোগে প্রধান শিক্ষক ও নৈশপ্রহরীর বিরুদ্ধে তদন্ত
Bangladailypost.com – স স ট ভ বন ধ কর – কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলায় অবস্থিত আলাউদ্দিন আহমেদ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে রাতের বেলায় সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে পুরনো রড ও একটি লোহার দরজা অপসারণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান এবং নৈশপ্রহরী সিদ্দিকুর রহমানকে দায়ী করা হচ্ছে। শিক্ষকমহল, ছাত্রছাত্রী এবং স্থানীয়রা এই বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা করছেন।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানানো হয়, গত মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে প্রায় আধাঘণ্টা ধরে সিসিটিভি বন্ধ রেখে প্রধান শিক্ষক ও নৈশপ্রহরী বিদ্যালয়ের পুরনো রড ও লোহার দরজা ভ্যানে করে নিয়ে যান। এই বিষয়ে সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে সরেজমিন পরিদর্শনে যাওয়া হয়। কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের আলাউদ্দিন নগর এলাকায় এই বিদ্যালয়টি অবস্থিত। বিদ্যালয়টি সিসিটিভির আওতাভুক্ত। বহুতল বিশিষ্ট বিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ভবনের পূর্বদিকে মেঝে পাকা টিনশেডের গুদাম ঘর রয়েছে। সেখানে কিছু ভাঙা বেঞ্চ ও পুরনো রড রাখা ছিল। ঘরটির দরজার কাছে থাকা বেশকিছু পুরনো রড ও লোহার দরজাটি এখন নেই।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য
সে সময় স্থানীয় বাসিন্দা মো. হাবিব বলেন, গত মঙ্গলবার রাত আটটার কাজ শেষে বাড়ি ফিরে দেখি বিদ্যালয়ের লাইট বন্ধ এবং সেখানে একটি ভ্যানও রয়েছে। তারপর গুদামঘরের কাছে এসে দেখি প্রধান শিক্ষক, নাইটগার্ড ও একজন ভ্যানচালক ঘর থেকে রড টানে টানে বের করে ভ্যানে সাজাচ্ছেন।
প্রধান শিক্ষক ও নাইটগার্ড সিদ্দিক এর আগেও রড, ভাঙা বেঞ্চসহ বিভিন্ন মালামাল রাতের বেলায় নিয়ে গেছেন।
বিদ্যালয়ের গুদামঘর ঘেঁষেই হাবিবের বাড়ি। তিনি ওই এলাকার মো. আব্দুল করিম মোল্লা। প্রত্যক্ষদর্শী বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী রাহাত বলেন, ‘আমরা নিয়মিত বিদ্যালয়ের ওয়াইফাই চালান। মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে হেড স্যার বললো নেট-মেট বন্ধ করে দিছি, তোমরা এখান থেকে চলে যাও। কিছুক্ষণ পর দেখি ভ্যান ভরে রড নিয়ে যাচ্ছে। সে সময় স্যার বললো, নেট দিচ্ছি, তোমরা চালানগা।’
সিসিটিভি ফুটেজ ও চুরির প্রমাণ
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সহকারী শিক্ষক বলেন, চুরির কথা শুনে সিসিটিভি চেক করলাম। তাতে দেখা যাচ্ছে, সেদিন রাতে হেডস্যার, নাইটগার্ড ও ভ্যানসহ এক চালক বিদ্যালয়ে ঢুকেছেন। এরপর হঠাৎ সিসিটিভি বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ৩০ মিনিট পর দেখা যাচ্ছে, ভ্যানে করে রড-দরজা নিয়ে যাচ্ছে চালক। তবে ভ্যান চালককে চেনা যাচ্ছে না।
সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চাইলে বিদ্যালয়ের আইসিটি শিক্ষক আমিনুর রহমান রোকন বলেন, প্রধান শিক্ষকের অনুমতি ছাড়া সিসিটিভি ফুটেজ দেখানো যাবে না। তার ভাষ্য, অন্তত ৪ থেকে ৫ মণ রড ও অন্যান্য মালামাল চুরি হয়েছে। রড চুরির সময় সিসিটিভি বন্ধ ছিল। চুরির আগে ও পরের ফুটেজ আছে। কিছু চেনা যাচ্ছে, আবার কিছু অস্পষ্ট। তবে সেখানে হেডস্যার ও নাইটগার্ড ছিল।
অভিযোগ ও তদন্তের পরিস্থিতি
অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান। কিন্তু তিনি সিসিটিভি ফুটেজও দেখাতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে কোনো চুরির ঘটনা ঘটেনি। আমি নিয়মিত রাতেও বিদ্যালয়ের খোঁজখবর নিতে যাই। দায়িত্বে অবহেলার কারণে নৈশপ্রহরীকে শোকজ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, ওই বিদ্যালয়ের চুরির ঘটনা কেউ জানায়নি। থানা থেকে কোনো লিখিত অভিযোগও পাওয়া যায়নি। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাজমুল হক বলেন, বিদ্যালয়ের কেউ কিছুই জানায়নি। সাংবাদিকদের মাধ্যমে জেনেছি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আল-মামুন সাগর/কেএইচকে/জেআইএম
