Country

‘বিবেকের তাড়নায়’ দুধ দিয়ে গোসল করে জামায়াত ছাড়লেন যুবক

ব ব ক র ত ড়ন য় - সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নূরনগর ইউনিয়নে জামায়াত ইসলামীর এক নেতা প্রকাশ্যে এক মণ দুধ দিয়ে গোসল করে দলীয় রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা

Desk Country
Published July 24, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments
Foto : Joseph Hernandez - bangladailypost.com

বিবেকের টানায় দুধ দিয়ে গোসল করে জামায়াত ত্যাগ করলেন যুবক

Bangladailypost.com – ব ব ক র ত ড়ন য় – সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নূরনগর ইউনিয়নে জামায়াত ইসলামীর এক নেতা প্রকাশ্যে এক মণ দুধ দিয়ে গোসল করে দলীয় রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে হরিনাগাৗী গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে। দলত্যাগকারী দেলোয়ার হোসেনের বয়স ত্রিশ পাঁচ বছর। তিনি হরিনাগাৗী গ্রামের মুনসুর সরদারের ছেলে। নূরনগর ইউনিয়নের আট নম্বর ওয়ার্ডে জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক ও যুব বিভাগের সেক্রেটারি হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করছিলেন বলে জানা যায়। এই ঘটনায় স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিবেকের টানায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ

দেলোয়ার হোসেন জানান, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো তাকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। একজন কর্মী হিসেবে পরিস্থিতি মেনে নিতে পারেননি তিনি। বিবেকের টানায় জামায়াত ইসলামীর সকল সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন। স্থানীয়দের দাবি, সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সাম্প্রতিক ভিডিও বিতর্কের পর ব্যক্তিগত নৈতিক অবস্থান থেকে তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে এক মণ দুধ দিয়ে গোসল করেন তিনি।

এই ঘটনাটি শুধু একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি একটি নৈতিক অবস্থানের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দেলোয়ার হোসেনের এই পদক্ষেপ অনেক তরুণের মধ্যেও অনুপ্রেরণা জাগিয়েছে। তিনি জানান, বিবেকের টানায় তিনি আর দলের সাথে থাকতে পারছেন না। এলাকার মানুষও তার এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন।

দেলোয়ার হোসেন দলের একজন কর্মী ছিলেন। তবে তিনি বায়তুল মাল সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন কি-না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করে বলতে পারেননি।

এ বিষয়ে নূরনগর ইউনিয়নের আট নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দেলোয়ার হোসেন দলের একজন কর্মী ছিলেন। তবে তিনি বায়তুল মাল সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন কি-না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। তিনি আরও জানান যে, দেলোয়ারের এই সিদ্ধান্ত দলের জন্য একটি আঘাত হলেও এটি তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেলোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতের সাথে যুক্ত ছিলেন। তিনি যুব বিভাগের সেক্রেটারি হিসেবে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো তাকে ভাবিয়ে তুলেছে। তিনি চান একটি স্বচ্ছ ও নৈতিক রাজনীতি। এই কারণেই তিনি দল ত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এই ঘটনার পর থেকে এলাকায় বিভিন্ন মতামত প্রকাশ পাচ্ছে। কেউ কেউ তাকে সাহসী বলে অভিহিত করছেন, আবার কেউ কেউ তার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন। তবে বেশিরভাগ মানুষই তার নৈতিক অবস্থানকে সমর্থন করছেন। দেলোয়ার হোসেনের এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে আরও অনেকের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আহসানুর রহমান/এসআর/জেআইএম

Leave a Comment