Country

‘বোমার গ্রাম’ বিলাসপুর

ব ম র গ র ম ব - শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নকে স্থানীয়ভাবে 'বোমার গ্রাম' হিসেবে চেনা যায়। এখানে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘাত দীর্ঘদিন

Desk Country
Published August 15, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments
og_1786792409_6a8049d9787cb
Foto : Karen Wilson - bangladailypost.com
Table of Contents
  1. শরীয়তপুরের বিলাসপুর: বোমার গ্রাম হিসেবে পরিচিত
  2. Related Reading
  3. Frequently Asked Questions

শরীয়তপুরের বিলাসপুর: বোমার গ্রাম হিসেবে পরিচিত

Bangladailypost.com – ব ম র গ র ম ব – শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নকে স্থানীয়ভাবে ‘বোমার গ্রাম’ হিসেবে চেনা যায়। এখানে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘাত দীর্ঘদিন ধরে চলছে। এই সংঘাতের অন্যতম ভয়ংকর অস্ত্র হাতবোমা। গত চার দশকে বোমা বিস্ফোরণ ও সংঘর্ষে অন্তত ১১ জনের প্রাণহানি হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন কমপক্ষে ২৫ জন। চলতি বছরের জানুয়ারিতেও বোমা বিস্ফোরণে প্রাণ গেছে তিনজনের।

বোমার উৎস ও কারণ

এরপরও থামেনি বিস্ফোরণ। স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, কখনো কবরস্থান, কখনো বসতবাড়ির সেপটিক ট্যাংকসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে মিলছে বোমার অস্তিত্ব। মূলত বোমা তৈরিতে অর্থের জোগান, মামলা হলেও বিচারে দীর্ঘসূত্রতা ও তদন্তে ধীরগতির কারণে অপরাধীদের সন্ত্রাসীমূলক কর্মকাণ্ড থামছে না। ফলে সহসাই কমছে না এই বোমাবাজি।

জাজিরার বিলাসপুর ইউনিয়নটি পদ্মা নদী লাগোয়া। একদিকে রয়েছে মুন্সিগঞ্জ, অপরদিকে চাঁদপুর। মূলত ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচনে জয়-পরাজয় নিয়ে বিরোধ, জেগে ওঠা চরের জমি দখলে নেওয়া, পদ্মা নদীর নৌপথ নিয়ন্ত্রণ, বালু উত্তোলন নিয়ন্ত্রণ, মাছ শিকার নিয়ন্ত্রণসহ আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সহিংসতা লেগেই আছে।

বোমা তৈরির ইতিহাস ও নেতৃত্ব

এই অঞ্চলের বোমা তৈরির কাঁচামাল মুন্সিগঞ্জ ও চাঁদপুরের নৌপথ দিয়ে আসে। কিছু মালামাল মাদারীপুর থেকে সড়ক পথে আসে। পদ্মার চর, বাগান ও পরিত্যক্ত ঘরে বসে এসব বোমা তৈরি করা হয়। এসব তৈরিতে তারকাটা, নৌকার পাতাম, মার্বেল ও বিশেষ ধরনের বলিবন্দ বারুদ ব্যবহার করা হয়। যা কাছাকাছি বিস্ফোরণ ঘটলে মানুষের মৃত্যু ও অঙ্গহানি ঘটে—বোমা তৈরির কারিগর শুরুটা হয়েছিল চার দশক আগে বিলাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মাদবর ওরফে মেছের মাস্টার ও আরেক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার মাদবরের মধ্যে।

একটি হত্যা মামলায় মেছের মাস্টার যাবজ্জীবন সাজাভোগ শেষে বের হলে কয়েক মাস পর মারা যান। তখন তার দলটি পরিচালনা করেন তারই চাচাতো ভাই সোবহান মাস্টার। অন্যদিকে আনোয়ার মাদবরের দলের নেতৃত্ব দেওয়া শুরু করেন বিলাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য কুদ্দুস বেপারী। পরে সোবহান মাস্টারের দলের নেতৃত্ব দেন পরাজিত চেয়ারম্যান ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জলিল মাদবর।

দুই বাহিনী ও তাদের কর্মকাণ্ড

নতুন এই নেতৃত্বে তাদের সমর্থকরা দুটি আলাদা বাহিনী গড়ে তুলেছেন। এই বাহিনীর দুটির সদস্যরা ককটেল তৈরি করা, বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকা আতঙ্ক তৈরি করে লুটপাট, সংঘর্ষে জড়ানো ও হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সম্প্রতি শরীয়তপুরের মুলাই বেপারি কান্দি এলাকার ফসলি মাঠে দুই পক্ষের সংঘর্ষে হাতবোমা বিস্ফোরণ/ছবি-সংগৃহীত সূত্র বলছে, এই দুই পক্ষে আছে ককটেল তৈরি ও বিস্ফোরণ ঘটানোর প্রশিক্ষিত লোক।

বিলাসপুরে তৈরি এসব ককটেল এই ইউনিয়নের বাইরেও বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে পার্শ্ববর্তী কয়েকটি ইউনিয়ন ও সীমানা লাগোয়া কয়েকটি জেলায়ও সংঘর্ষের ঘটনায় বিলাসপুর থেকে এসব হাতবোমা সরবরাহ করা হয়। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির অভিযোগ, সংঘাতকে কেন্দ্র করে বোমা তৈরির জন্য মোটা অঙ্কের অর্থ দেওয়া হয়। সেই অর্থে স্থানীয় কিছু যুবককে ব্যবহার করে তৈরি করা হয় হাতবোমা।

কারিগরদের বক্তব্য

বোমা তৈরির সঙ্গে যুক্ত এমন কয়েকজনের বক্তব্যও পাওয়া গেছে। সম্প্রতি মুলাই বেপারি কান্দি এলাকার গিয়ে কথা হয় হাতবোমা তৈরির কারিগর দুই তরুণের সঙ্গে। তাদের বয়স ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। এরা দেখে দেখে বোমা তৈরির কাজ রপ্ত করেছেন। এদের মধ্যে একজনের দাবি, হাতবোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণে চোখের সামনে তার এক স্বজনের মৃত্যু হলে তিনি এসব থেকে সরে এসেছেন। তবে এই বয়সেই তার ওপর রয়েছে বিস্ফোরক দ্রব্য, মারামারিসহ অন্তত ৯টি মামলা।

পরিচয় গোপন রাখার স্বার্থে হাতবোমা ব্যাপারে বেশকিছু চমকপ্রদ তথ্য দেন এই কারিগর। তিনি জাগো নিউজকে বলেন,

এই অঞ্চলের বোমা তৈরির কাঁচামাল মুন্সিগঞ্জ ও চাঁদপুরের নৌপথ দিয়ে আসে। কিছু মালামাল মাদারীপুর থেকে সড়ক পথে আসে। পদ্মার চর, বাগান ও পরিত্যক্ত ঘরে বসে এসব বোমা তৈরি করা হয়। এসব তৈরিতে তারকাটা, নৌকার পাতাম, মার্বেল ও বিশেষ ধরনের বলিবন্দ বারুদ ব্যবহার করা হয়। যা কাছাকাছি বিস্ফোরণ ঘটলে মানুষের মৃত্যু ও অঙ্গহানি ঘটে।

আসলে আমাদের এলাকার এই মারামারি থামার নয়। কেননা বাইরে থেকে বেশ কিছু লোক অর্থের জোগান দিয়ে থাকে। সেই টাকা দিয়ে মানুষজন আধিপত্য বিস্তার করতে সংঘর্ষে জড়ায়। প্রশাসনের তেমন কোনো উদ্যোগ নেই। তারা যদি সঠিকভাবে উদ্যোগ নিত, তাহলে এই সংঘর্ষ-বোমাবাজি ঠেকানো যেত—ভুক্তভোগী এই কারিগরের ভাষ্যমতে, এককেজি বারুদে ১০টি বোমা তৈরি করা যায়। পারিশ্রমিক দেওয়া হয় দুই হাজার টাকা। এক ঘণ্টার কমপক্ষে ১০০ পিস বোমা বানানো সম্ভব। সারাদিন বোমা তৈরি করলে দিনে পাঁচ লাখ টাকাও আয় করা সম্ভব।

তিনি বলেন,

এসব কালো টাকা বেশি থাকে না। আর এ কাজে অনেক মৃত্যুঝুঁকি আছে। আমার বড় ভাই আমাকে বোমা তৈরির সময় ফিরাতে গিয়ে বিস্ফোরণ ঘটলে আমার চোখের সামনেই মারা যায়। সেই থেকে আমি বোমা বানানো ছেড়ে দিয়েছি।

বোমা তৈরির এই কারিগর বলেন, পুলিশ চাইলে বোমাবাজি যেকোনো মুহূর্তে থামানো সম্ভব। কিন্তু তারা অভিযানের আগেই থানা থেকে খবর দিয়ে দেন, যাতে মামলার আসামিরা পালিয়ে যান।

কথা হয় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় অঙ্গহানি হওয়া মেহের আলী মাদবর কান্দি এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য মজিবুর রহমান মোল্লার সঙ্গে। তিনি জাগো নিউজকে বলেন,

আমাদের এলাকার অন্তত সাতজন আছেন, যাদের বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় অঙ্গহানি হয়েছে। কারও হাত উড়ে গেছে, কারও পা উড়ে গেছে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

বিলাসপুরকে ‘বোমার গ্রাম’ কেন বলা হয়? গত চার দশক ধরে বিলাসপুর ইউনিয়নে বোমা তৈরি ও বিস্ফোরণের ঘটনা চলছে। এখানে অন্তত ১১ জনের প্রাণহানি ও ২৫ জন পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।

বোমা তৈরির কাঁচামাল কোথা থেকে আসে? মুন্সিগঞ্জ ও চাঁদপুরের নৌপথ দিয়ে কাঁচামাল আসে। কিছু মালামাল মাদারীপুর থেকে সড়ক পথে আসে।

বোমা তৈরিতে কত আয় করা সম্ভব? এক ঘণ্টায় কমপক্ষে ১০০ পিস বোমা বানানো সম্ভব। সারাদিন বোমা তৈরি করলে দিনে পাঁচ লাখ টাকাও আয় করা সম্ভব।

বোমা তৈরির ঝুঁকি কতটুকু? বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণে অনেকের মৃত্যু ও অঙ্গহানি হয়েছে। স্থানীয় কারিগরদের মধ্যে অন্তত সাতজন বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় অঙ্গহানি হয়েছে।

Frequently Asked Questions

What is ব ম র গ র ম ব?

ব ম র গ র ম ব is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ব ম র গ র ম ব matter?

ব ম র গ র ম ব matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Comment