ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য পুনর্নির্মাণে নতুন উদ্যোগ
Bangladailypost.com – ব রশ র ষ ঠ হ ম – ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসন অসম্পূর্ণ অবস্থায় থাকা বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যটি পুনর্নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিজয় দিবসের পূর্বেই নতুন ভাস্কর্য স্থাপন এবং আগের অসম্পূর্ণ ভাস্কর্য সরিয়ে ফেলার পরিকল্পনা রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ ও সঠিক ভাস্কর্য নির্মাণের জন্য যথাযথ স্থান নির্বাচন, নকশা তৈরি ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১৪ জন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বুধবার, ২২ জুলাই তারিখে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক সভায় এই সিদ্ধান্তগুলো ঘোষণা করা হয়। সভায় জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধারা, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পারিবারিক সদস্যবৃন্দ, সাংবাদিক নেতারা, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
কমিটির সদস্যবৃন্দ ও সভার বিবরণ
গঠিত কমিটিতে জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার (পদাধিকারবলে), জেলা পরিষদের প্রশাসক (পদাধিকারবলে), স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও পৌরসভার প্রশাসক রথীন্দ্র নাথ রায়, জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের প্রতিনিধি, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাতিজা হাফিজুর রহমান, ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিনিধিসহ রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সভার শুরুতে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাতিজা হাফিজুর রহমান বক্তব্য রাখেন। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘২০১৯ সালের ২৬ মার্চ ঝিনাইদহ-ঢাকা মহাসড়কের সড়কদ্বীপে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নামে চত্বর ও ভাস্কর্যের নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। সেই সময় বীরশ্রেষ্ঠের পরিবারের সদস্য হিসেবে আমাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। আমরা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের দিন উপস্থিত ছিলাম। এরপর গত ১৪ জুলাই পত্রপত্রিকায় দেখলাম, আমার চাচা বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ভেঙে ফেলা হচ্ছে। দিনের আলোতে কে বা কারা ভাস্কর্য ও চত্বর ভেঙে ফেলছে তা প্রশাসনের কেউ বলতে পারেনি। পৌরসভার কেউ এ নিয়ে আমাদের কিছু জানায়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান আমাদের গর্ব, ঝিনাইদহের গর্ব, বাংলাদেশের গর্ব। তার নামে হওয়া চত্বর ও ভাস্কর্য ভেঙে ফেলার বিষয়টি আমরা পরিবারের সদস্যরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না। আমরা চাই, একই স্থানে পূর্ণাঙ্গ ভাস্কর্য ও চত্বর পুনর্নির্মাণ করা হোক।’
প্রকল্প ও ভাস্কর্য সংক্রান্ত তথ্য
জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার হাফিজুর রহমান বলেন, যে মহাসড়কের মাঝখানে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নামে চত্বর ও ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে, ওই জায়গাটি বিশ্বব্যাংকের উইকেলার প্রজেক্টের আওতায় চলে গেছে। এরপর বক্তব্য রাখেন যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কের ৬ লেন প্রকল্পের ফেজ-১ এর উপসহকারী প্রকৌশলী নিলন আলী। তিনি বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ছয় লেন প্রকল্পের আওতায় যশোর-কুষ্টিয়া মহাসড়ক ও ঝিনাইদহ-ঢাকা মহাসড়কের চৌমুহনীতে বৃহৎ পরিসরে ইন্টারসেকশন (মোড়) হবে। ইন্টারসেকশন হলে সেখানে ভাস্কর্য রাখাও কঠিন হবে। কারণ, প্রকল্পের নকশায় ইন্টারসেকশনের মাঝখানে কোনো স্থাপনা রাখা হয়নি।
সভায় জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এমএ মজিদ বলেন, বিগত দিনে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বরের নাম কেউ জানতো না। কোনো প্রচারণা ছিল না। মহাসড়কের মাঝখানে স্থাপনাটি অজানা কারণে আওয়ামী লীগের সরকার বন্ধ করে দেয়। সেখানে ভাস্কর্য ও চত্বর নির্মাণে ব্যাপক লুটপাট হয়েছে। যে কারণে ভাস্কর্য পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামালউদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নামে স্থাপিত চত্বর ও ভাস্কর্য সম্পর্কে জেলার অনেকেই অন্ধকারে ছিলেন। অনেকেই জানতেন না, ওইখানে আসলে কার ভাস্কর্য ছিল। কারণ, বিগত দিনে ভাস্কর্যটি নির্মাণের কাজ শুরু হলেও তার পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া হয়নি।
সভায় জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন বলেন, প্রয়োজনবোধে কমিটিতে দুই-একজন সদস্য যুক্ত করা হতে পারে। আশা করছি, কমিটি দ্রুততম সম্ভাব্য উপযুক্ত জায়গা যাচাই বাছাই করবেন। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এ-সংক্রান্ত পরবর্তী কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।
এম শাহাজান/এসআর/জেআইএম
