ছয় মাস হয়ে গেলেও দিপু দাসের হত্যাকাণ্ডের বিচার চলছে অব্যাহত
ছয় ম স ও শ ষ হয়ন – ময়মনসিংহের পোশাক শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসের হত্যা মামলার বিচার ছয় মাস পূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও শেষ হয়নি। তার পরিবার ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য দিন গুনছে।
ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হত্যার শিকার ছেলে
গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে ভালুকা উপজেলার জামিরদিয়া এলাকার একটি পোশাক কারখানায় দিপু চন্দ্র দাসকে ধর্ম অবমাননা করে পিটিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। তার ছেলে ছিল রবি চন্দ্র দাস।
নিহতের ছোট ভাই অপু চন্দ্র দাস এ হত্যাকাণ্ডে বাদী হয়েছিলেন। তিনি গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর ভালুকা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১৪০ থেকে ১৫০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।
তদন্তে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত
তদন্তকারী সূত্র থেকে জানা গেছে যে পুলিশ এ পর্যন্ত ২৯ জন আসামিকে গ্রেফতার করেছে। তাদের মধ্যে ১২ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং ৩ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
তদন্তের অবশিষ্ট কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ, জব্দ করা ভিডিও এবং বিভিন্ন আলামত বিশ্লেষণ করে আসামিদের শনাক্ত করা হয়েছে। তদন্তকারী সূত্র থেকে আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।
স্বামীকে হারানোর শোক কখনোই কাটবে না। ছোট মেয়েকে নিয়ে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছি। তবে শ্বশুর-শাশুড়িসহ পরিবারের সবাই আমাদের পাশে রয়েছেন। আমি শুধু আমার স্বামীর হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।
মৃত্যুর আগে শুধু আমার ছেলের হত্যার বিচার দেখে যেতে চাই।
সন্তান হারানোর কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তার মৃত্যুতে পরিবারে আর্থিক সংকটও বেড়েছে। আমরা এখনো বিচার পাওয়ার আশায় আছি।
ময়মনসিংহ জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর মো. আনোয়ার আজিজ টুটুল জানান, মামলাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ। এখন পর্যন্ত কোনো আসামি আদালত থেকে জামিন পানি না। উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়া দুই আসামির জামিনও পরে বাতিল হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জাগো নিউজকে বলেন, দিপু হত্যা মামলার তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।