Country

ঐতিহ্যবাহী ভাসানী হল / দিনে পানের দোকান-ট্রাকস্ট্যান্ড, রাতে বসে মাদকসেবীদের আড্ডা

ঐত হ যব হ ভ স ন - টাঙ্গাইলের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে ভাসানী হল একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। একসময় নাটক, সংগীত, নৃত্য ও কবিতার মিলনস্থল হিসেবে এটি পরিচিত ছিল। কিন্তু

Desk Country
Published July 25, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments
Foto : Sandra Rodriguez - bangladailypost.com

ঐতিহ্যবাহী ভাসানী হল: সাংস্কৃতিক প্রাণকেন্দ্র থেকে পরিত্যক্ত ভবন

Bangladailypost.com – ঐত হ যব হ ভ স ন – টাঙ্গাইলের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে ভাসানী হল একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। একসময় নাটক, সংগীত, নৃত্য ও কবিতার মিলনস্থল হিসেবে এটি পরিচিত ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিনের অবহেলা ও সংস্কারের অভাবে এখন এটি পরিত্যক্ত ভবনে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, দিনে এখানে পানের দোকান ও ট্রাকস্ট্যান্ড থাকে, আর সন্ধ্যা নামলে মাদকসেবীদের আড্ডাখানা হয়ে ওঠে।

ঐতিহ্যবাহী ভবনের ইতিহাস ও উদ্বোধন

টাঙ্গাইল শহরের প্রাণকেন্দ্রে প্রায় ৩৫ শতাংশ জমির ওপর এই ভবনটি নির্মিত হয়। ১৯৭৬ সালের ১৬ আগস্ট তৎকালীন রাষ্ট্রপতির শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আবুল ফজল ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এরপর ১৯৭৮ সালের ২ এপ্রিল দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত মিলনায়তনের উদ্বোধন করেন ঢাকা বিভাগের কমিশনার খানে আলম খান। প্রথমে এর নাম ছিল ‘টাঙ্গাইল টাউন হল’, পরে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘ভাসানী হল’।

এক হাজার আসন বিশিষ্ট এই মিলনায়তনে জেলার সব সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠান পরিচালিত হতো। প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে এর চত্বরে বইমেলা অনুষ্ঠিত হতো। ঈদের সময় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন নাটক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কনসার্টের আয়োজন করতো। নাট্যচর্চাসহ সংস্কৃতিকর্মীদের নিয়মিত আড্ডাও এখানে বসত।

বর্তমান অবস্থা ও স্থানীয়দের অভিযোগ

প্রায় অর্ধশত বছরের পুরোনো এই ঐতিহাসিক ভবনটি নিয়মিত সংস্কারের অভাবে ধীরে ধীরে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। প্রায় এক যুগ আগে প্রশাসন এটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। এরপর থেকেই বন্ধ হয়ে যায় জেলার অন্যতম বড় এই মিলনায়তনের কার্যক্রম। হলের সামনের বারান্দায় বসেছে পানের পাইকারি দোকান, আর পুরো প্রাঙ্গণ ব্যবহার হচ্ছে ট্রাকস্ট্যান্ড হিসেবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর পুরো পরিবেশ বদলে যায়। নিয়মিত মাদকসেবীদের আনাগোনা শুরু হয়। পাশাপাশি অসামাজিক কর্মকাণ্ডও চলে বলে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত থাকা ভবনটির নিরাপত্তা ও তদারকি প্রায় নেই বললেই চলে। একসময় যে জায়গায় পরিবার নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখতে আসতেন মানুষ, এখন সন্ধ্যার পর সেখানে যেতেও ভয় পান অনেকে।

২০১৫ সালে একবার হলটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তার কোনো বাস্তব প্রতিফলন আজ অবধি দেখা যায়নি। চলতি বছরের ১২ জুন স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু হলটি পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি এ হলের পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

সুরকার ও শিল্পী ফিরোজ বাচ্চু বলেন, ভাসানী হল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমি ছিলাম। হলটি সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য খুবই উপকার ছিল। এখন একটি ভালো অনুষ্ঠান করতে গেলে শিল্পকলা অ্যাকাডেমিতে যেতে হয়। তবে আগের মতো এত বড় করে আমরা অনুষ্ঠান করতে পারি না।

কবি মাহমুদ কামাল ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হারুন অর রশিদও দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত এ হলটিকে পুনর্নির্মাণ বা সংস্কার করার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, সমাজের মাদকের ছোবল ও কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত থেকে মুক্তি পেতে হলে ক্রীড়া অঙ্গন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে মুখরিত রাখতে হবে। তার জন্য একটি ভালো অডিটোরিয়াম প্রয়োজন।

Leave a Comment