Sports

ট্রাম্প-ইনফান্তিনো বিতর্ক নিয়ে যে কারণে তদন্ত করতে রাজি নয় আইওসি

og_1784980608_6a64a48081206

আইওসি ইনফান্তিনো বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত করবে না: ফিফার স্বাধীনতা ও এখতিয়ার নিয়ে বিতর্ক

Bangladailypost.com – ট র ম প ইনফ ন ত – ফিফা সভাপতি জি০ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে উঠে থাকা রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তের জন্য আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) রাজি নয়। মানবাধিকার সংস্থা ফেয়ারস্কয়ারের জমা দেওয়া অভিযোগটি মূলত ফিফার অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। ফলে এটি আইওসির নৈতিকতা কমিশনের এখতিয়ারের বাইরে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।

বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত ও ট্রাম্পের ভূমিকা

চলতি মাসের শুরুতে ফেয়ারস্কয়ার আইওসির কাছে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয়। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে ইনফান্তিনোর কাছে লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানান। এরপরই ফিফা বালোগুনের স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে।

গত ৫ জুলাই ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি জানায়, মোনাকোর এই ফরোয়ার্ডের এক ম্যাচের স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা হয়েছে। পরদিন ট্রাম্প নিজেই প্রকাশ করেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে ইনফান্তিনোর কাছে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছিলেন। যদিও ইনফান্তিনো দাবি করেছেন, ফিফার বিচারিক কমিটিগুলো সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেয়, তবুও কেন বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা হলো, সে বিষয়ে ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি এখনো কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি।

আইওসির নৈতিকতা কমিশনের সিদ্ধান্ত ও যুক্তি

যদিও ইনফান্তিনো আইওসির সদস্য, তবুও আইওসির এক মুখপাত্র জানান, নৈতিকতা কমিশন অভিযোগটি বিস্তারিত পর্যালোচনা করে দেখেছে এবং সিদ্ধান্তে এসেছে যে এটি তাদের তদন্তের আওতায় পড়ে না। আইওসির বিবৃতিতে বলা হয়, অলিম্পিক সনদ অনুযায়ী প্রতিটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ফেডারেশন নিজেদের প্রশাসন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বাধীন। আইওসির নৈতিকতা বিধি কেবল আন্তর্জাতিক ফেডারেশনগুলোর সঙ্গে আইওসির সম্পর্কের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

অলিম্পিক সনদ অনুযায়ী প্রতিটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ফেডারেশন নিজেদের প্রশাসন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বাধীন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ফেয়ারস্কয়ারের অভিযোগে ফিফার প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক এবং ফুটবলের নিয়ম বাস্তবায়নের বিষয়গুলো উঠে এসেছে, যা আইওসির নৈতিকতা বিধির আওতার বাইরে। তাই অভিযোগটি তদন্তের এখতিয়ার তাদের নেই। তবে আইওসি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক অধিবেশনেও যেমন পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে, অলিম্পিক আন্দোলনের অধীন সংস্থাগুলোর মধ্যে সুশাসন জোরদার এবং দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা আরও স্পষ্ট করতে তারা কাজ চালিয়ে যাবে।

ফেয়ারস্কয়ারের পৃথক অভিযোগ ও ফিফার নৈতিকতা কমিটির ভূমিকা

অন্যদিকে, ফেয়ারস্কয়ার গত বছরের ডিসেম্বরে ফিফার নৈতিকতা কমিটির তদন্ত শাখার কাছেও ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে পৃথক অভিযোগ দায়ের করে। সেখানে অভিযোগ করা হয়, চারটি ভিন্ন ঘটনায় ইনফান্তিনো প্রকাশ্যে ট্রাম্পের বিভিন্ন পদক্ষেপ ও নীতির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। এছাড়া ২০২৬ বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে ফিফা পিস প্রাইজ চালু করা এবং সেই পুরস্কার ট্রাম্পকে দেওয়ার সিদ্ধান্তও তদন্তের দাবি জানায় সংস্থাটি। তাদের অভিযোগ, এসব সিদ্ধান্ত ফিফার নিজস্ব প্রক্রিয়াগত নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ফেয়ারস্কয়ার জানিয়েছে, ফিফার নৈতিকতা কমিটি অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও এরপর আর কোনো অগ্রগতির তথ্য জানায়নি।

উয়েফার সমালোচনা ও বিশ্বকাপ ফাইনালে অনুপস্থিতি

এদিকে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা এই সিদ্ধান্তকে ‘অভূতপূর্ব, বোধগম্য নয় এবং কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়’ বলে সমালোচনা করেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্দার চেফেরিন এই ইস্যুসহ ফিফার প্রশাসন নিয়ে আরও কিছু উদ্বেগের কারণে গত বিশ্বকাপ ফাইনালে উপস্থিত হননি।

উয়েফা এই সিদ্ধান্তকে ‘অভূতপূর্ব, বোধগম্য নয় এবং কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়’ বলে সমালোচনা করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *