পুণ্ড্রনগরের প্রবাদ-প্রবচন এবং লৌকিক ছড়া: দ্বিতীয় পর্ব
প ণ ড রনগর র প রব – পুণ্ড্র অঞ্চল এবং বৃহত্তর বগুড়া ও তার আশপাশের এলাকার মানুষদের মধ্যে প্রচলিত ছড়াগুলো নিখিলবাংলার অন্য অঞ্চলগুলোতেও ব্যবহৃত হয়। কিন্তু আমাদের দাবি হলো, এগুলো আমাদের নির্বাচিত অঞ্চলে সর্বমহলে প্রসিদ্ধ। অতি-সুবিদিত প্রবাদের কিছু সংক্ষিপ্ত সূচি নিচে প্রদর্শিত হলো।
সারিয়াকান্দি উপজেলার প্রবাদ
চ্যাঙ উজায় ব্যাঙ উজায় খইলসা কয় আমিও উজাই।
এই প্রবাদে চ্যাঙ এবং খইলসা হলো পুরুষ এবং মহিলার মধ্যে বিশেষ শ্রেণির মাছ। এগুলো স্রোতের বিপরীত দিকে উজাতে পারে না। প্রবাদটি সারিয়াকান্দি উপজেলার মানুষদের কাছে বেশি পরিচিত।
নদীর সম্পর্কিত প্রবাদ
ভাও বুঝে নাও বাও।
এখানে ভাও শব্দটি দামদর বা অবস্থার অর্থ নেয়া হয়েছে। সামাজিক ও প্রতীকী দৃষ্টিভঙ্গি স্বাক্ষর করে এই প্রবাদটি সামগ্রিক বিষয় বোঝায়।
বিপদ ও সংকটের প্রতিক্রিয়ার প্রতিফলন
সাঁতারের উপর পানি নাই।
অর্থে বিপদ বা সংকট চরম আকার ধারণ করলে তাকে সাথে নিয়েই চলতে হয়। এই ধারণা প্রবাদটি প্রকাশ করে।
প্রতিক্রিয়া ও অপমানের প্রতিবিম্বন
আঁড়া মোচরাতে না পেরে বাড়া মোচরায়।
আঁড়া একটি ঝোপঝাড়ের সামন্ত প্ল্যান্ট এবং বাড়া হলো পুরুষের যৌনাঙ্গ। এই প্রবাদটি প্রকাশ করে এমন কারণে যে কোনো মানুষ যদি সঞ্চিত ক্ষুব্ধতা বা ক্ষোভ নিয়ে আপনাকে বেশি উপকৃত হতে হয়।
প্রতিকারের অভাবের প্রতিফলন
যার মনে যা ফালদে ওঠে তা।
এই প্রবাদটি এমন কিছু মানুষের সংশয় বা আকাঙ্ক্ষা অন্যের মনে সন্ধান করে এবং তার মর্মার্থ এক বিশেষ রকমের বিবেচনা করা হয়।
অপদার্থতার প্রতিফলন
ঠোসা ঢেকির বাইজ বেশি।
নির্বোধ এবং অপদার্থ মানুষের চাপার জোর বেশি হয় বলে প্রকাশ করে এই প্রবাদটি। এটি সামাজিক ভাবে বিশেষ শিক্ষা দেখায়।
বুদ্ধিবৃত্তির বিভেদ
ছ্যাড়ার বুদ্ধি গলাত বুড়ার বুদ্ধি তলাত।
অভিজ্ঞতার অভাব বশত কমবয়সী যুবকদের বুদ্ধি হালকা হয়ে থাকে। বয়সী মানুষ জীবন সম্পর্কিত অভিজ্ঞতার কারণে বুদ্ধিটি পাকা ও ভারি হয়।
প্রবাদের মূল বিষয়গুলো
নাইয়ার এক নাও নি-নাইয়ার শত নাও।
প্রবাদটি নদীর্বর্তী অঞ্চলে পরিচিত হলেও এর অর্থ সম্পর্কে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে।
অপরাধ ও শোষণের প্রতিক্রিয়া
কয়লা ধুইলে ময়লা যায় না।
এই প্রবাদটি নিরাকার মানুষ যারা কোনো উপদেশে শোধ পায় না এবং নির্দোষতা হারিয়ে যায়।
পরিবর্তনের বিষয়ে বিশ্বাস ও স্বীকৃতি
দিনে দিনে আরও যে কী হই।