কাজিনকে বিয়ে করার আগে জানুন এই সত্য
ক জ নক ব য় কর র – ব্র্যাডফোর্ডে তিন বোন বিয়ের অনুষ্ঠান প্রস্তুত করছেন যারা তাদের পরিবারের অন্য একটি বিয়ে করার জন্য সাজাচ্ছেন। একটি কোণে চুল সাজানোর কাজ চলছে, অন্য কোণে হাসি-আড্ডা ও গল্পের ঝড় তৈরি হচ্ছে। কিন্তু এই বিয়েটি অন্য সব বিয়ের সাথে আলাদা হয়ে উঠেছে কারণ বর ও কনে সম্পর্কে ফার্স্ট কাজিন নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। এই প্রথা এখনও কিছু পরিবারে সামাজিক পরিচিত এবং গ্রহণযোগ্য।
এই দীর্ঘদিনের প্রথাকে নতুন আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে সাম্প্রতিক গবেষণা এবং স্বাস্থ্য তথ্য। আয়েশা বোন কয়েক বছর আগে নিজের ফার্স্ট কাজিনকে বিয়ে করেছিলেন যারা দুই সন্তানের মা। তার মনে হয় যে এই সিদ্ধান্ত পারিবারিক ঐতিহ্যের অংশ। কিন্তু আধুনিক পরিবেশে পরবর্তী প্রজন্ম বিভিন্ন পছন্দ গ্রহণ করতে শুরু করেছে।
সালিনা তার পছন্দে পরিবারের বাইরে একজনকে বিয়ে করেছেন। তার মতে শিক্ষা, কর্মজীবন এবং সামাজিক যোগাযোগ তরুণদের নতুন সম্ভাবনা খুলে দিয়েছে। মাঝের বোন মালিকা মনে করেন নারীদের সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত পছন্দ ও সচেতনতার ভিত্তিতে নেওয়া উচিত।
গবেষণার ফলাফল
‘বর্ন ইন ব্র্যাডফোর্ড’ গবেষণায় ২০০৭ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণ করা ১৩ হাজারের বেশি শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ পর্যবেক্ষণ করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাবা-মা ফার্স্ট কাজিন। গবেষকদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে রক্তসম্পর্কিত বাবা-মার সন্তানদের বংশগত রোগের ঝুঁকি কিছু নির্দিষ্ট ভাবে বেশি।
তাই স্বাস্থ্যঝুঁকি শুধুমাত্র ফার্স্ট কাজিন বিয়ের ফল হিসেবে ব্যাখ্যা করলে পুরো চিত্রটি বোঝা যায় না বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এন্ডোগামি বা একই সম্প্রদায়ে প্রজন্মে প্রজন্ম বিয়ে হলে নির্দিষ্ট জেনেটিক বৈশিষ্ট্য বা রোগের বাহক হওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে পারে।
নরওয়ে ফার্স্ট কাজিনদের মধ্যে বিয়ে নিষিদ্ধ করেছে এবং সুইডেন একই পথে এগোচ্ছে। যুক্তরাজ্যে এই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা হচ্ছে কিন্তু সরকার কোনও নিষেধাজ্ঞা জারি করেনি। বিশেষজ্ঞরা সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জেনেটিক কাউন্সেলিং গুরুত্ব দিয়েছেন।
ব্র্যাডফোর্ডের পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত পরিবারগুলোতেও ধীরে ধীরে পরিবর্ত