একজন মা ও একটি রাতজাগা পাখি
একজন ম ও একট র তজ গ – রাত গভীর হতে পারে চারপাশ ধীরে ধীরে গভীর হয়ে ওঠে। শহরের মাঝে যেন কোনো ধ্বনি বা হাসি আর মাঝেমাঝে ঘুরে ফিরে আসে। কিন্তু আমার মনে যেন সবকিছু গোপনে চলে চলে। আমার পাশে জেগে থাকে একটি ছোট্ট প্রাণ—আমার রাতজাগা পাখি, আমার ছেলে রোহান। ওর চোখে কোনো ঘুম নেই, কোনো ক্লান্তি নেই, আছে শুধু খেলা আর মায়া। ওকে দেখলে আমি বুঝি—মা হওয়া শুধু একটি সম্পর্ক নয়, এটি এক অদৃশ্য সংগ্রাম। যে প্রতিদিন নিঃশব্দে বয়ে নিতে হয়।
দিনের আলোতে আমি ওর সাথে ঘুরে বেড়াই। খাওয়া, খেলা, হাসি আর আবদার এমন একটি গল্প বানিয়ে তোলে আমার পুরো সময়। সেই সময়ে নিজেকে ক্লান্ত মনে হয় না, বরং মনে হয় আমি পূর্ণ। কিন্তু রাত নামতে পারে কিছু বদলে যায়। যখন আশেপাশে শান্তি ছড়ায়, তখন আমার ক্লান্তি আরও দৃঢ় হয়ে ওঠে। চোখ জ্বালা করে, শরীর ভেঙে আসে। তবুও ঘুম আসে না—কারণ আমার ছোট্ট পাখিটা তখনো জেগে থাকে। রাতের পার্থক্য ও বোঝে না। ওর কাছে রাতও যেন এক নতুন খেলার সময়।
সাহায্য আর নির্ভরতার মধ্যে সীমারেখা
আমার জীবনের কিছু অধ্যায় আমাকে এমন এক জায়গায় এনে দাঁড় করিয়েছে; যেখানে সিদ্ধান্তগুলো আর পুরোপুরি আমার নিজের ছিল না। দায়িত্ব, সম্পর্ক আর বাস্তবতার ভারে নিজের চাওয়াগুলো ধীরে ধীরে চাপা পড়ে গেছে। কখন যে নিজের ইচ্ছাগুলোকে দূরে সরিয়ে রেখেছি, তা হয়তো আমিও বুঝে উঠতে পারিনি। তবুও মনের গভীরে একটা ছোট্ট আলো জ্বলতেই থাকে—নিজের পরিচয়ে দাঁড়ানোর ইচ্ছা। নিজের মতো করে সম্মান নিয়ে বাঁচার আকাঙ্ক্ষা।
পরিবারের ভেতরে থেকেও অনেক সময় নিজের একটা আলাদা জায়গা খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। সাহায্য আর নির্ভরতার মধ্যে খুব সূক্ষ্ম একটা সীমারেখা থাকে। সেই সীমা পেরিয়ে গেলে মনে হয়, নিজের অস্তিত্বটাই যেন অন্যের ছায়ায় ঢেকে যাচ্ছে। তখন নিজের ভেতরে একটা নীরব কষ্ট জমে—যেটা কাউকে বলা যায় না, আবার একেবারে চেপেও রাখা যায় না।
হয়তো আজকের এই ক্লান্ত রাতগুলো একদিন বদলে যাবে। হয়তো এই নির্ঘুম সময়গুলোই একদিন শক্তির গল্প হয়ে দাঁড়াবে।
আমি বিশ্বাস করি, প্রতিটা দীর্ঘ রাতের পর যেমন ভোর আসে; তেমনই আমার জীবনেও একদিন শান্ত, উজ্জ্বল এক সকাল আসবে। সেই সকালে আমি শুধু একজন মা হিসেবেই নয়, একজন পূর্ণ মানুষ হিসেবেও নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকবো—নিজের পরিচয়ে, নিজের সম্মানে।