শিশুশ্রমের বেড়াজালে বন্দি শৈশব, হারিয়ে যাচ্ছে স্বপ্ন
শ শ শ রম র ব ড় – বাংলাদেশে শিশুদের খাবার, ফুল, খেলনা বা নানা পণ্য বিক্রি করতে দেখা যায় রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড, লঞ্চঘাট এবং পার্ক সহ বিভিন্ন জনবহুল জায়গায়। এতে হালকা কাজের পাশাপাশি অনেক শিশু ভারী কাজেও নিয়োজিত। তাদের বয়স বেশির ভাগই ৭ থেকে ১২ বছরের মধ্যে পড়ে। যে বয়সে স্কুলে যাওয়ার সময়, বন্ধুদের সঙ্গে খেলার প্রতিযোগিতা হওয়ার সময় এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন বুনার দিন বয়সে তারা জীবিকা করতে বাধ্য হয়ে পরিবারের বোঝা বহন করে।
শিশুদের জন্য শৈশব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়ে তাদের জীবনের ভিত্তি তৈরি হয়, যা পরবর্তী জীবনের পথ নির্দেশনা করে। বাড়ির পরিবেশ ও শিক্ষার সুযোগ শিশুদের মানসিক ও সামাজিক বিকাশে অপরিহার্য। তারা স্কুলে গিয়ে বিদ্যালয়ের পাশাপাশি শৃঙ্খলা এবং সামাজিক আচরণ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করে, যা তাদের ভবিষ্যতে উন্নত সমাজ গড়ে ওঠার জন্য নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে অনেক শিশু চায়ের দোকানে, হোটেল-রেস্তোরাঁয়, কারখানায় বা রাস্তায় কাজ করছে। তাদের অধিকাংশই দরিদ্র পরিবারের সন্তান। শিশুশ্রমের পেছনে সবচেয়ে মূল কারণ দারিদ্র্য। পরিবারের দৈনন্দিন খাবার খাওয়া বা আয় পূরণের জন্য শিশুদের পরিশ্রম করতে হয়। কিছু ক্ষেত্রে বাবা-মা বিশ্বাস করেন যে কাজে পাঠানো শিশুদের আয়ের জন্য বেশি সুবিধা হয়। কারণ কাজে বাড়তি সম্পদ অর্জন করা সম্ভব হয়।
শিশুরা শৃঙ্খলা ও সামাজিক আচরণ জানার পাশাপাশি ভবিষ্যতে পেশার স্বপ্ন দেখে। বড় হয়ে ডাক্তার, শিক্ষক, ইঞ্জিনিয়ার বা পাইলট হয়ে ওঠার কথা ভাবে। তাদের স্বাভাবিক শৈশব অনেকটা নষ্ট হয় এবং সারাদিন কাজ করায় শিক্ষা বা খেলার সুযোগ হারায়। অনেক শিশু কঠোর কাজে শারীরিক দুর্বলতা বা রোগে আক্রান্ত হয়। বিশেষ করে ভারী কাজে নিয়োগ পেয়া শিশুরা ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে জীবন যাপন করে।
দেশের সরকার শিশুশ্রম প্রতিরোধে বিভিন্ন আইন এবং নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। তবে আইনগুলো সঠিক কাজে পরিচালনা হয় না। ফলে শিশুদের কাজে নিয়োগের দায় সরকার ও সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের উপর অবিস্মরণীয়।
আজকের শিশুই আগামী দিনের বাংলাদেশ। তাদের সুন্দর শৈশব নিশ্চিত ক
শিশুশ্রম প্রতিরোধে প্রথম দরিদ্র পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন জরুরি। কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা প্রোগ্রাম সম্প্রসারণ এবং দরিদ্র শিশু