National

ঢাকার সড়কের নতুন ‘যমদূত’

auto-rikshwa-mq3wg5a4uhsvro9-20260607215005

ঢাকার সড়কের নতুন ‘যমদূত’

Bangladailypost.com – ঢ ক র সড ক র নত – ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে। মর্গের সামনে থেকে প্রতিধ্বনি ছিল মা’র কান্নার শব্দ। একটি শিশুর মরদেহ স্ট্রেচারে স্থাপন করা হয়েছে। কান্নার আওয়া থেকে স্পষ্ট হয় যে ছেলেটির জীবন ফেরত আসছে না। তার গায়ে গোলাপি রং সাজানো আছে, চোখ আধখোলা হয়েছে যেন ঘুমাচ্ছে। পরনে গোলাপি ফ্রক পরানো আছে। পাশাপাশি দুই শিশুর শরীর এখন হাসপাতালের ময়দানে রয়েছে।

প্রাণ হারিয়ে মায়ের গোলাপি পরী বিলাপ করছেন। একটি সন্তান স্থানে মৃত্যুর সামনে তিনি চুপ করে থাকতে চান না। মায়ের আবেগে বলা হচ্ছে, “হায়রে ব্যাটারি রিকশাওয়ালা যমদূত, আমার আদরের মাইয়াডারে কাইড়া নিলি।” সামগ্রিকভাবে মা’র কান্নার রোল গোটা হাসপাতালকে আঁকিয়ে রয়েছে।

গত ৬ মে রাজধানীর দুই প্রান্তে ব্যাটারিচালিত রিকশার দুর্ঘটনায় দুই শিশু মৃত হয়েছে। কদমতলীতে আট বছর বয়সী সুমাইয়া নুর তাকওয়া নানির সঙ্গে হাঁটার সময় একই ধরনের দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়। কয়েক ঘণ্টা চিকিৎসার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। মামলা করতে হলে মরদেহের ময়নাতদন্ত করতে হতো। কারণ জান্নাতি ও সুমাইয়া এ মৃত্যু দুর্ঘটনার বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।

স্থানীয় সামগ্রিক বলেন, রিকশার কোনো নম্বর প্লেট ছিল না। ফলে ঘাতক চালককে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরিবারের আবেগে বলা হচ্ছে, মামলা করা হয়নি কারণ চালক ছিলেন গরিব ও বয়স্ক। ময়নাতদন্তের কারণে তাদের শিশু শরীর কাটাছেঁড়া হওয়া ছিল না।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুর্ঘটনার পর অন্য একটি শিশুর ফুফাতো ভাই আব্দুস সালাম জানান, তার কাছে জান্নাতি এবং সুমাইয়া দুই শিশু নিহত হয়েছে। ঘটনার সময় তারা মাত্র কয়েক ঘণ্টা আলাপ করেছেন। জান্নাতির মরদেহ অদূরে জানালার গ্রিল ধরে দেখা যায়। মামি তানজিলা বলেন, “মামলা করতে হলে শরীর কাটাছেঁড়া করতে হতো। আমরা নিয়তিকে মেনে নিয়েছি কারণ চালক ছিলেন বয়স্ক।”

দুর্ঘটনার প্রবল সামগ্রিক পরিস্থিতি

সাম্প্রতিক সময়ে হাসপাতালে আহত শিশু এবং পথচারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। নোয়াখালীতে গত বছরের নভেম্বরে ট্রাকের সঙ্গে অটোরিকশার সংঘর্ষে ছয়জন নিহত হন। কোম্পানীগঞ্জে গত বছরের ২২ জুলাই ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চাপায় অসিম (১২) ও ইয়াসিন (৬) নামে দুই শিশু হারিয়ে যায়।

ঢাকার সড়কে আজকাল তীব্র আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। মানুষের সামনে যান বেড়েছে। প্যাডেলচালিত রিকশার বিস্তারের পর মার্চ মাসে হাসপাতালে রাস্তার গর্ত দেখে চলে না রিকশা। স্পিড ব্রেকার দেখেও গতি কমায় না। নিয়ন্ত্রণ হারায় যান। কবির বর্ডার গার্ড হেলালুজ্জামান বলেন, “তিন মাস আগে এই রিকশায় চড়ে পড�

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *