পথশিশুরা সবচেয়ে বেশি নির্যাতন ও হয়রানির শিকার
পথশ শ র সবচ য় ব শ - জনপ্রিয় গানে শিশুদের জন্য সুন্দর একটি পরিবেশের কথা বলা হয়েছে—'যে শিশু পৃথিবীর আলো দেখেছে আমরা তার তরে একটি সাজানো বাগান চাই'। এই সুরে
Table of Contents
পথশিশুদের সংগ্রাম ও সমস্যা: একটি বিশ্লেষণ
Bangladailypost.com – পথশ শ র সবচ য় ব শ – জনপ্রিয় গানে শিশুদের জন্য সুন্দর একটি পরিবেশের কথা বলা হয়েছে—’যে শিশু পৃথিবীর আলো দেখেছে আমরা তার তরে একটি সাজানো বাগান চাই’। এই সুরে সুরে প্রকাশিত কথাগুলো রাষ্ট্র, সমাজ এবং ব্যক্তিগতভাবে আমাদের কতটুকু মেনে চলা উচিত। শিশুদের জন্য সামাজিক সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ ও প্রদানে এখনও অনেক বৈষম্য রয়েছে। এই বৈষম্যের শিকার শিশুরা একাকী পথে-প্রান্তরে ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে খেয়ে, না খেয়ে রাত কাটায়।
এই শিশুদের মধ্যে অনেকে শারীরিক প্রতিবন্ধী, পাগল বা অতি দরিদ্র—যারা সমাজে মানুষ হিসেবে স্বীকৃত। ওভার ব্রিজের নিচে, রাস্তার ধারে, ট্রেন লাইন ও বাস স্টেশনে কিংবা হাটখোলার কোনো ঘুপচি ঘরে এরা বসবাস করে। আমরা এদের টোকাই বা পথশিশু বলি। আমাদের উন্নয়নশীল দেশে পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থার কাছে এই অবহেলিত মানুষগুলোর কোনো সামাজিক মর্যাদা নেই। পারিবারিক বন্ধনহীন এরা বাবা-মায়ের স্নেহ-মমতা পায় না। তাই নিজের সিদ্ধান্তে জীবন চালাতে বাধ্য হয়।
প্রদর্শনী ও প্রচারণার বাস্তবতা
এই শিশুদের নিয়ে করুণার নামে জঘন্য বিদ্রূপ চলে হরহামেশাই। ফটোগ্রাফাররা পথের পাশে কুকুরের সাথে ওদের নির্মম বসবাসের ছবি তোলে, যা নিয়ে প্রদর্শনী বা এক্সিবিশন হয়। আমরা সেগুলো বেশ টাকা খরচ করে দেখি এবং কিনেও আনি। ঈদ বা শীত এলে রাষ্ট্র কিংবা কিছু প্রতিষ্ঠান ফটোসেশনে ব্যস্ত হয়ে ওঠে। অসহায়দের মাঝে কম্বল বিতরণ, ঈদের পোশাক বিতরণের ছবি পত্রপত্রিকা বা ফেসবুকে দেখা যায়। মাঝে মাঝে ফটোগ্রাফাররা পুরস্কৃত হন কিন্তু পথের শিশুরা পথেই থেকে যায়। সোস্যাল মিডিয়ায় এসব ছবি শেয়ার করে লাইক দেওয়া হয়। অনেকে মন্তব্যও করেন যে খুব কষ্ট পেয়েছেন। কিন্তু ধুলো মলিন এসব শিশুকে বুকে টেনে নিয়ে কেউ কি এক বেলা আহার করাচ্ছেন? তাহলে এসব প্রচারণা করে পথশিশুদের কী লাভ হচ্ছে?
ইউনিসেফের প্রতিবেদন ও জরিপের তথ্য
সংবিধানে প্রত্যেকটি মানুষের মৌলিক অধিকারের কথা বলা আছে। যাদের মৌলিক চাহিদাগুলো পাওয়ার কথা ছিল, তারা হচ্ছেন মূলত উপেক্ষিত। সম্প্রতি প্রকাশিত ইউনিসেফের প্রতিবেদনে জানা যায়, বাংলাদেশে রাস্তায় বসবাসকারী শিশুর সংখ্যা প্রায় ৩.৪ মিলিয়ন। তারা দারিদ্র্য, অপুষ্টি, রোগ, নিরক্ষরতা ও সহিংসতাসহ নানা বঞ্চনার শিকার। ‘বাংলাদেশে রাস্তার পরিস্থিতিতে শিশুরা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই শোচনীয় পরিস্থিতির বিস্তারিত বিবরণ উঠে এসেছে।
ঢাকা এবং দেশের আটটি বিভাগের যেসব স্থানে পথশিশুর আনাগোনা বেশি, সেখান থেকে ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৭ হাজার ২০০ শিশুর কাছে সরাসরি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে জরিপ প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। জরিপে রাস্তাঘাটে বসবাসকারী শিশুদের মোট সংখ্যা না থাকলেও ইউনিসেফ বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই সংখ্যা ১০ লক্ষাধিক হতে পারে।
শিশুদের জীবনযাপন ও সহিংসতা
জরিপের তথ্য অনুযায়ী, এই শিশুদের বেশিরভাগই ছেলে (৮২ শতাংশ) এবং তাদের বেশিরভাগ দারিদ্র্যের কারণে বা কাজের সন্ধানে রাস্তায় আসে। প্রায় ১৩ শতাংশ শিশু তাদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন এবং ৬ শতাংশ শিশু এতিম অথবা তাদের বাবা-মা বেঁচে আছেন কি না, তা তাদের জানা নেই। এই শিশুদের প্রতি তিনজনের মধ্যে প্রায় একজন (৩০ শতাংশের বেশি) জীবনের সবচেয়ে মৌলিক সুযোগ-সুবিধা, যেমন- ঘুমানোর জন্য বিছানা এবং নিরাপত্তা ও স্বস্তির জন্য দরজা বন্ধ করে রাখা যায়, এমন একটি ঘর থেকে বঞ্চিত। তারা খোলা জায়গায় থাকে ও ঘুমায়। প্রায় অর্ধেক শিশু মাটিতে ঘুমায় শুধু একটি পাটের ব্যাগ, শক্ত কাগজ, প্লাস্টিকের টুকরো বা একটি পাতলা কম্বল নিয়ে। প্রায় ৭ শতাংশ শিশু সম্পূর্ণ একা ঘুমায় এবং ১৭ শতাংশ শিশু কয়েক জন একসঙ্গে মিলে ঘুমানোর মাধ্যমে সুরক্ষা ও স্বস্তি খোঁজে।
শিশুদের প্রতি সহিংসতা তিনটি ঘটনার একটি (৩০ দশমিক ৪ শতাংশ) রাতে তাদের ঘুমের সময় ঘটে থাকে। রাস্তায় বসবাসকারী শিশুরা সবচেয়ে বেশি নির্যাতন ও হরানির শিকার হয় পথচারীদের দ্বারা। জরিপে অংশ নেওয়া শিশুদের প্রতি ১০ জনের মধ্যে আটজনই পথচারীদের দ্বারা নির্যাতন বা হরানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করে। জীবিকা নির্বাহের জন্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বর্জ্য সংগ্রহ, ভিক্ষাবৃত্তি বা চায়ের দোকানে, কারখানা ও ওয়ার্কশপে কাজ করতে বাধ্য হওয়া এই শিশুরা প্রতিদিন আঘাত ও সহিংসতার শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। জরিপে অংশ নেওয়া শিশুদের এক-তৃতীয়াংশ শিশু কাজ করার সময় আহত হওয়ার কথা জানায়, আর অর্ধেক শিশু জানায় সহিংসতার শিকার হওয়ার কথা।
রাস্তায় থাকা শিশুদের প্রতি চারজনের মধ্যে তিনজন (৭১ দশমিক ৮ শতাংশ) পড়তে বা লিখতে পারে না, যা জীবনভর তাদের জন্য প্রতিবন্ধক হিসেবে থেকে যায় এবং তাদের নির্মম ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দেয়। আমাদের দেশে যেসব শিশু রাস্তায় রয়েছে; তারা নানা সহিংসতায় বেড়ে উঠছে। এসব শিশুর জীবন উন্নয়নে শুধু সরকার নয়, সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। এগিয়ে আসতে হবে বিভিন্ন সংগঠন-সংস্থাকে। প্রতিবেদনে উঠে আসা এ বাস্তব চিত্র দেশের পথশিশুদের পরিস্থিতি মোকাবিলায় নীতিমালা প্রণয়ন ও কর্মসূচি গ্রহণে সহায়ক হবে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is পথশ শ র সবচ য় ব শ?
পথশ শ র সবচ য় ব শ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does পথশ শ র সবচ য় ব শ matter?
পথশ শ র সবচ য় ব শ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.