মৌলভীবাজারের চা বাগান: বর্ষায় সম্পূর্ণ নতুন মুখ ফুটে ওঠে
বর ষ য় ঘ র আস ন – বাংলাদেশের মোট ১৬৮টি চা বাগানের মধ্যে মৌলভীবাজারে সবচেয়ে বেশি চা বাগান রয়েছে। সেখানে সর্বকালের সর্বাধিক বৃষ্টিপাত হয় এবং তাই বর্ষায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এ জনপদে অসাধারণ হয়ে ওঠে। শুষ্ক মৌসুমে বৃষ্টি না হলে চা গাছগুলো শুকিয়ে যায় এবং তাদের পাতা লাল রঙে পরিণত হয়। কিন্তু বৃষ্টি শুরু হলে চা গাছ সজীব হয়ে নতুন পাতা ও ফুল উৎপাদন করে। এই সবুজ দৃশ্য সৌন্দর্য দেখায় পর্যটকদের।
মৌলভীবাজার জেলার প্রতিটি চা বাগান দৃষ্টিনন্দন। জেলার সাতটি উপজেলায় চা বাগান বিস্তার হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চা বাগান শ্রীমঙ্গল উপজেলায় রয়েছে। তারপর কমলগঞ্জ উপজেলায় ২২টি চা বাগান রয়েছে। এই সবুজ সম্পন্ন জেলা চায়ের রাজধানী হিসেবে পরিচিত।
চা উৎপাদন ও গবেষণা কেন্দ্রের গুরুত্ব
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর সরকার ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটকে প্রধান কার্যালয় হিসেবে উন্নীত করে। যার সাথে সহায়তা করে পাকিসতান চা বোর্ড ১৯৫৭ সালে চা গবেষণা স্টেশন প্রতিষ্ঠা করে। চায়ের রাজধানী হিসেবে শ্রীমঙ্গল উপজেলার উপমহাদেশের সবচেয়ে পুরাতন চা গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত।
সাত রঙের চার আকর্ষণ
এই জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলায় এক কাপে সাত রঙের চা পাওয়া যায়। প্রতিটি স্তরে আলাদা স্বাদ ও রং রয়েছে। এটি নীলকণ্ঠ টি কেবিনে প্রতিষ্ঠিত হয়। রমেশ রাম গৌড় এই চার আকর্ষণের উদ্ভাবক।
“আমরা প্রতি বছর বর্ষায় শ্রীমঙ্গলে ঘুরতে আসি। এই সময়ে চা বাগানের পাশাপাশি কারখানাগুলোতে চা উৎপাদন ও প্রক্রিয়া দেখা যায়। বৃষ্টি হলে বৃষ্টিভেজা চা পাতা দেখতে পারেন।” – নরসিংদী থেকে আসা জালাল আহমেদ ও সাকিব চৌধুরী
বর্ষায় মৌলভীবাজারে পর্যটকের সংখ্যা বেড়ে ওঠে। সেলিম আহমেদ বলেন, “বর্ষায় প্রকৃতির রূপ আসল হয়। যেদিকে তাকানো যায় সেদিকে সজীবতা চোখে পড়বে। পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য ট্যুরিস্ট পুলিশ সব সময় কাজে নিয়োজিত।”
গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্টের জেনারেল ম্যানেজার আরমান খান বলেন, “মৌলভীবাজারের পর্যটন শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করতে হবে। যেহেতু এ জেলায় চায়ের জন্ম হয়েছিল এবং সবচেয়ে বেশি বিস্তার ঘটেছিল, তাই এটি বাংলাদেশের চায়ের রাজধানী হিসেবে পরিচিত। এখানে বর্ষায