ভারতের জয়যাত্রা শুরু, সূর্যবংশীর ঝড়ো ইনিংসে জিম্বাবুেকে হারালো
Bangladailypost.com – স র যব শ র ত ণ – শ্রেয়াস আইয়ারের নেতৃত্বে টানা ছয় ম্যাচ হারের পর ভারতীয় ক্রিকেট দল অবশেষে জয়ের মুখ দেখল। হারারেতে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম খেলায় স্বাগতিক জিম্বাবুেকে ৭ উইকেটে হারিয়ে দারুণ সূচনা করেছে সফরকারীরা। এই ম্যাচে সবচেয়ে বেশি আলো পাওয়া খেলোয়াড় ছিলেন ১৫ বছর বয়সী বিস্ময়কর তরুণ বৈভব সূর্যবংশী। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের আগমনী বার্তা জোরালোভাবে জানাতে মাত্র ১৯ বলে ৫০ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি।
জিম্বাবুের সংগ্রহ ও ভারতের জবাব
হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ভারত অধিনায়েক শ্রেয়াস আইয়ার। শুরুতেই ধাক্কা খেয়ে পাওয়ার প্লেতে ৩ উইকেট হারিয়ে মাত্র ২৬ রান তোলে জিম্বাবুে। অধিনায়েক সিকান্দার রাজা দ্রুত রান তুলতে গিয়ে শিভম দুবের বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরলে দল আরও চাপে পড়ে। এরপর ওয়েসলি মাধভেরি ৩৪ বলে ৩৮, রাইয়ান বার্ল ৩৫ বলে ২৬ এবং তাদিওয়ানাসাশে মারুমানি অপরাজিত ২৭ রান করে দলকে লড়াই করার মতো ১২৫ রানে পৌঁছে দেন।
জবাবে ১২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি ভারতের। ওপেনার অভিষেক শর্ম ৮ বলে মাত্র ১ রান করে ফিরলেও অন্য প্রান্তে ঝড় তুলেছিলেন সূর্যবংশী। ইংল্যান্ড সফরে আন্তর্জাতিক অভিষেকটা প্রত্যাশামতো না হলেও হারারের পরিচিত উইকেটে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেন এই কিশোর। চলতি বছরের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে এই মাঠেই ৮০ বলে ১৭৫ রানের স্মরণীয় ইনিংস খেলেছিলেন তিনি।
সূর্যবংশীর ঝড়ো ব্যাটিং
রিচার্ড এনগারাভার এক ওভারেই দুটি বিশাল ছক্কা হাঁকিয়ে শুরু করেন সূর্যবংশী। এরপর ব্লেসিং মুজারাবানিকেও ছাড় দেননি। পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার পর ১৮ বলেই তুলে নেন নিজের অর্ধশতক, যা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তার প্রথম বড় ইনিংস। পরের বলেই আউট হলেও ততক্ষণে ম্যাচ ভারতের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। তার ইনিংসে ছিল ৪টি চার ও ৪টি ছক্কা।
সূর্যবংশী ফেরার পর ইশান কিশান ২৪ বলে ৩৫ রান করেন। অধিনায়েক শ্রেয়াস আইয়ার ২৪ বলে অপরাজিত ২৮ রান করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। মাত্র ১৩.২ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছায় ভারত।
মাধব যাদবের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন
এর আগে বল হাতে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেন গত বছর চোটের কারণে ছিটকে যাওয়া পেসার মাধব যাদব। ২০২৪ সালের অক্টোবরের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে ম্যাচের প্রথম বলেই উইকেট তুলে নেন তিনি। হার্ড লেংথের দুর্দান্ত ডেলিভারিতে ব্রায়ান বেনেটকে উইকেটকিপারের ক্যাচ বানান। মাঠের আম্পায়ার আউট না দিলেও ডিআরএসে সিদ্ধান্ত ভারতের পক্ষে যায়। স্ট্রেস ফ্র্যাকচারের অস্ত্রোপচারের পর ফেরা মাধব নিয়মিত ঘণ্টায় ১৪৫ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বল করেন। নিজের দ্বিতীয় উইকেটও তুলে নেন ডিওন মার্শকে পুল শটে ভুল করতে।
অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা আশোক শর্মও শুরুতে কিছু রান দিলেও পরে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে জিম্বাবুের রান আটকে রাখেন। সূর্যবংশীর বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে সহজ জয় তুলে নিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল আইয়ারের দল।
