Sports

বিশ্বকাপে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের কোনো প্রমাণ পায়নি ফিফা

ব শ বক প ম য চ - বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নেয় এই টুর্নামেন্টে। মোট ১০৪টি ম্যাচের মাধ্যমে এগিয়ে যায় বিশ্বকাপ। শেষ পর্যন্ত ফাইনালে

Desk Sports
Published July 23, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments
Foto : Sandra Rodriguez - bangladailypost.com

২০২৬ বিশ্বকাপে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগে ফিফার নতুন বিবৃতি

Bangladailypost.com – ব শ বক প ম য চ – বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নেয় এই টুর্নামেন্টে। মোট ১০৪টি ম্যাচের মাধ্যমে এগিয়ে যায় বিশ্বকাপ। শেষ পর্যন্ত ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে পরাজিত করে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে স্পেন। কিন্তু টুর্নামেন্ট চলাকালে রেফারিং নিয়ে বেশ কিছু বিতর্ক সৃষ্টি হয়।

মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন তাদের অভিযোগ তুলে ধরে। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে হারের পর তারা সংশ্লিষ্ট রেফারিদের বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানায়। মিশরের কোচ হোসাম হাসানও একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ করেন। তিনি দাবি করেন যে, ফিফা লিওনেল মেসিকে টুর্নামেন্টে ধরে রাখতে চেয়েছিল। এই অভিযোগের জবাবে ফিফার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়ারলুইজি কলিনা এসব দাবিকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন।

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পোস্ট ও ফিফার তদন্ত

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্টে ফিফার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ থাকা বিষয়টিতে লাইক দেওয়ার ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এর পরপরই ফিফা তাদের তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করে। ফিফা ইন্টিগ্রিটি টাস্ক ফোর্স পুরো বিশ্বকাপজুড়ে ম্যাচগুলোর বেটিং বাজার ও মাঠের ঘটনাপ্রবাহ তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে।

এই টাস্কফোর্সে ছিলেন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞরা। তাদের মধ্যে রয়েছে—

  • এফবিআই (FBI)
  • ইন্টারপোল (INTERPOL)
  • জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (UNODC)
  • কাউন্সিল অব ইউরোপ
  • ইন্টারন্যাশনাল বেটিং ইন্টিগ্রিটি অ্যাসোসিয়েশন (IBIA)
  • এবং বিভিন্ন ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিশেষজ্ঞরা

প্রতিযোগিতা চলাকালে সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা তথ্যের ভিত্তিতে কোনো ম্যাচে সন্দেহজনক বেটিং কার্যক্রম বা ম্যাচ কারসাজির ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

দুটি চলমান তদন্ত

ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগে কোনো প্রমাণ না মিললেও আর্জেন্টিনা জাতীয় দলকে ঘিরে ফিফার দুটি আলাদা তদন্ত এখনো চলছে। প্রথম তদন্তটি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল জয়ের পর খেলোয়াড়দের প্রদর্শিত ‘Las Malvinas son Argentinas’ (মালভিনাস/ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনার) লেখা ব্যানারকে কেন্দ্র করে।

দ্বিতীয় তদন্তটি স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালের পর ঘটে যাওয়া সংঘর্ষ নিয়ে। অভিযোগ রয়েছে, লিওন্দ্রো প্যারেদেস, নাহুয়েল মোলিনা এবং সহকারী কোচ রবার্তো আগুইলা স্পেনের কয়েকজন খেলোয়াড়ের সাথে শারীরিক সংঘর্ষে জড়িয়েছিলেন। ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি এ ঘটনায় একজন শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা বিষয়ক প্রসিকিউটর নিয়োগ করেছে। তদন্তে যদি শৃঙ্খলাবিধির ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদ লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে জরিমানা, নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

ফিফার সিনিয়র ইন্টিগ্রিটি ম্যানেজার লিয়াম রিচ বলেন, এই যৌথ উদ্যোগ সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত ও তথ্য আদান-প্রদানের জন্য একটি শক্তিশালী কাঠামো তৈরি করেছে। ভবিষ্যতের টুর্নামেন্ট, বিশেষ করে আগামী বছরের নারী বিশ্বকাপেও এই পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে।

Leave a Comment